মো: ইনামুল হোসেন
২৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
ঈদের আনন্দ এবার দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিয়েছে ছোটপর্দায় জনপ্রিয় নীলাঞ্জনা নীলার জীবনে। দীর্ঘ সাত বছরের বন্ধুকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়ে নতুন পরিচয়ে পথচলা শুরু করেছেন তিনি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও খবরটি জানিয়েছেন গেল রোজার ঈদের দিন।
উত্তরা ইউনিভার্সিটির একই সেমিস্টারে পড়ার সুবাদে কাউসার মাহমুদ সায়ানের সঙ্গে নীলার সখ্যতা গড়ে ওঠে। সেই ক্যাম্পাস জীবনের বন্ধুত্বই আজ রূপ নিয়েছে সংসার জীবনে। সোমবার ঢাকা মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নীলা শুনিয়েছেন তাঁদের সেই বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠার পেছনের গল্প।

অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমাদের মধ্যে পিওর ফ্রেন্ডশিপ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার পরও আমাদের বন্ধুত্ব টিকে ছিল। বিয়ের জন্য আমরা যতটুকু এগিয়েছি, তার থেকে বেশি এগিয়েছেন আমাদের অভিভাবক এবং আশেপাশের মানুষজন। বন্ধুবান্ধবরা বলত—তোদের মধ্যে এত ভালো সম্পর্ক, বিয়ে করিস না কেন? তোরা তো বিয়ে করতে পারিস। বন্ধুদের উৎসাহেই শেষ পর্যন্ত আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। সে খুবই সৎ এবং ভালো মনের একজন মানুষ, এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।’
বিয়ের পর থেকে টানা কাজের চাপে এখন পর্যন্ত বিয়ের অনুভূতি অনুভব করার মতো সুযোগ পাননি অভিনেত্রী। এমনকি নিজেদের মধ্যেও দেখা খুব কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুভ কাজ অনেক আগেই শেষ করলেও প্রকাশ্যে আনতে কেন দেড় মাসের অপেক্ষা? এ বিষয়ে অভিনেত্রী জানান, বিয়ের পরপরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রমজান মাস চলে আসায় তিনি সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। নীলার কথায়, ‘বিয়ের আগে অসুস্থতার কারণে একমাস বিছানা থেকে উঠতে পারিনি। সুস্থ হওয়ার পর সবাই বলতে লাগল শুভ কাজে দেরি কীসের? এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হলো। বিয়ের পরপরই নির্বাচন এবং রমজান শুরু হয়ে গেল। তাই সুখবর জানানোর সুযোগ পাইনি। রোজাটা শেষ হওয়া মাত্রই সবাইকে বিয়ের খবর জানিয়ে দিলাম।’
বিয়ের পর অনেক অভিনেত্রী অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়লেও নীলার ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। বিয়ের পর তিনি আরও বেশি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘কাজের ব্যাপারে আমার স্বামী খুব বেশি অনুপ্রেরণা দেয়। সে চায় আমি কাজে আরও বেশি মনোযোগী হই। তাই কাজ ছেড়ে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।’

বিয়ের পর প্রথম ঈদটি বেশ ব্যস্ততায় কেটেছে তাঁর। ঈদের দিন স্বামী কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকায় পরদিন শ্বশুরবাড়ি এবং বাবার বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে হয়েছে। নীলা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে টানা কাজ নিয়ে ব্যস্ত। ঈদের দিন স্বামী পেশাগত কারণে ব্যস্ত ছিল, নিজেও কাজ করেছি। এজন্য আমাদের ঈদ শুরু হয়েছিল একদিন পর।’
নতুন বউ হিসেবে রান্নাঘরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে অভিনেত্রী হেসে বলেন, ‘একবার গিয়েছিলাম, কিন্তু শাশুড়ি আর স্বামী আমাকে রান্নাঘরে থাকতেই দেয় না। তারা চায় না আমি ওসব করি।’
বর্তমানে নাটকের শুটিং নিয়ে দম ফেলার ফুরসত নেই তাঁর। পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় আছে তিনটি চলচ্চিত্র। ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত ব্যস্ততা সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের সোনালি সময় পার করছেন তিনি।
ইএইচ/