বিনোদন ডেস্ক
২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ভারতীয় পুলিশের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডামি’র অভিযোগ এনেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক। শুটিংয়ে যাওয়ার পথে এক অনভিপ্রেত ঘটনার শিকার হয়ে সামাজিক মাধ্যমে এ অভিযোগ আনেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
বিষয়টি বিস্তারিতভাবে দেশটির সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন অরিত্র। তিনি বলেন, “শুটের কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলাম। রথতলার মোড়ে ডানলপ ট্রাফিক গার্ড আমার গাড়ি থামায়। যেহেতু আমি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করিনি, তাই প্রথমেই থামানোর কারণ জানতে চাই। তারা জানায়, আমার গাড়িটিকে নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করতে চান তারা। আমি পাল্টা জানাই, এটা ব্যক্তিগত গাড়ি এবং আমার দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। তো এই রিক্যুইজিশনে আমি গাড়িটি দিতে পারছি না। এরপর ওরা জোর করে আমার গাড়ি রাস্তার একপাশে দাঁড় করিয়ে আমার হাতে একটি রিক্যুইজিশন স্লিপ ধরিয়ে বলে, যে গাড়িটা আপনাকে দিতেই হবে।”
কিন্তু পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে উল্টো তর্কে জড়ান। পুলিশকে দেখান আইনি যুক্তি। এতে হাল ছাড়ে পুলিশ। গাড়িসহ ছেড়ে দেয় অভিনেতাকে। অরিত্রর কথায়, “প্রথমটায় আমাকে আটকে রাখা হলেও, সিগন্যাল খুললেই বলপূবর্ক সেখান থেকে বেরিয়ে যাই। নইলে ভদ্রভাবে বের হতে পারতাম না।”
অভিনেতার পাশাপাশি অরিত্র একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইনফ্লুয়েন্সার। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি আইনি যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি। তার কথায়, “প্রথমত, কলকাতা উচ্চ আদালতের রায় (২০০৬) অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ি কোনোভাবেই ‘ট্রান্সপোর্ট ভেহিকেল’ (ট্যাক্সি বা বাস) নয়। মোটর ভেহিকেল অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়ার কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তাই নির্বাচনের কাজের জন্য (যা ভাড়ার ভিত্তিতে হয়) আপনার ব্যক্তিগত গাড়ি নেওয়া আইনের পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত, সেকশন ১৬০ (২) আরপি অ্যাক্ট অনুযায়ী, গাড়ি নেওয়ার আগে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা নির্বাচন আধিকারিককে একটি লিখিত নির্দেশ আপনার নামে বা আপনার ঠিকানায় পাঠাতে হবে। রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মুখে বলে বা ট্রাফিক পুলিশ চাইলেই গাড়ি নিয়ে নিতে পারে না। তৃতীয়ত, Rule 98 (আদর্শ আচরণবিধি) অনুযায়ী, রিক্যুইজিশন অর্ডার আপনার বাড়িতে বা কর্মস্থলে রেজিস্টার্ড পোস্টের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছে দিতে হবে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে নথিপত্র কেড়ে নেওয়া বা জোর করে গাড়ি নেওয়াকে আদালত ‘হাইওয়েম্যান’ বা দস্যুর মতো আচরণ বলে বর্ণনা করেছে।” আমজনতার উদ্দেশে অরিত্রর বার্তা, “সতর্ক হোন এসব গুন্ডামি প্রতিরোধ করুন।”
এদিকে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন অরিত্র। যা নিয়ে চলছে তুলকালাম। নেটিজনরা অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়ে তুলোধুনো করছেন প্রশাসনকে।