images

বিনোদন

স্ত্রীর দাফনে অনুপস্থিতি নিয়ে যা বললেন জাহের আলভী

বিনোদন ডেস্ক

০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর সময় শুটিংয়ের কাজে নেপালে ছিলেন ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী। ইকরার আত্মহত্যার পর দাফনে উপস্থিত না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। 

সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে ২৮ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগসহ সব বিষয়ে কথা বলেন আলভী। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘কথাগুলো শুনবেন এবং প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা করবেন।’ 

শুরুতে সমালোচকদের উদ্দেশে আলভী বলেন, ‘গল্পের একটা পাতা পড়েই আপনারা বিচার করছেন এবং মনের মতো যা ইচ্ছা বলছেন। কিন্তু পাতার এক পাশ পড়বেন আর অন্য পাশ পড়বেন না—তা তো হয় না।’ 

তিনি জানান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমি আসলে সবকিছু গুছিয়ে বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। আপনাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমি ভিডিওটি করছি।’ 

আরও পড়ুন—

দাফনে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলভী বলেন, ‘আপনারা বলছেন, যে মানুষটা ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আত্মহত্যা করে চলে গেল, শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতেও আমি আসলাম না! কিন্তু আপনারা কি আমার দেশে আসার মতো পরিস্থিতি রেখেছেন? আমি দেশে আসামাত্রই মব তৈরি হতো; আমাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলতেন। আমার ফোনে এত এত হুমকি আসছে যে আমি বলে বোঝাতে পারব না।’ 

তিনি দাবি করেন, ঢাকায় ফেরার বিমানের টিকিট কেটে নেপালের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ফিরে যান। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য ছিল যে বিমানবন্দরের বাইরে লোক রাখা আছে, আমি দেশে আসামাত্রই তারা আমাকে মেরে ফেলবে। পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে আইনিভাবে মোকাবিলা করতাম। কিন্তু আমি যদি মারা যাই, তবে আমার ছেলে রিজিকের কী হবে? আপনারা কি চান সে তার বাবাকেও হারাক?’ 

আলভীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইকরার পরিবারও তাঁকে শেষবার দেখতে দেয়নি। ভিডিওতে আবেগাপ্লুত হয়ে আলভী বলেন, ‘১৬ বছর ইকরার সঙ্গে সংসার করছি। একটা মানুষ যদি তার শত্রুর সঙ্গেও ১৬ বছর এক ছাদের নিচে থাকে, সে মারা গেলে তাকে দেখার জন্য ছটফট করে। আর সে তো আমার স্ত্রী ছিল, ভালোবেসেই আমরা বিয়ে করেছি। সে মারা গেছে, অথচ শেষবারের মতো তার চেহারা আমি দেখব না?’

za
সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথি’র সঙ্গে আলভী। 

তিনি জানান, তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেক আগে থেকেই চলছিল। আলভী বলেন, ‘তিথির (সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথি) সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে থেকেই আমাদের সম্পর্কটা তিক্ত ছিল। ইকরা অনেক আগে থেকেই আমার কাছে তালাক চাইত। কিন্তু আমি কখনোই তালাক দিতে চাইনি। আমি নিজে একটি ভাঙা পরিবারে বড় হওয়া ছেলে; ছোটবেলায় আমার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়েছে। আমি চাইনি আমার সন্তান রিজিক সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাক।’ আলভীর দাবি, ইকরা শুরু থেকেই সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং বাইরের কিছু মানুষের হস্তক্ষেপ সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিচিত কিছু মানুষ দিনের পর দিন মানসিকভাবে আঘাত করে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। একটা সংসার তখনই বিষাক্ত হয়, যখন বাইরের মানুষ তাতে নাক গলায়।’ 

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে উল্লেখ করেন আলভী। তিনি দাবি করেন, তার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে যা তিনি অন্য ভিডিওতে প্রকাশ করবেন। 

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। সে সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, ‘খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’ 

একই সঙ্গে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানান। ইকরার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে এক সহশিল্পীর সঙ্গে আলভীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায় এবং সে কারণেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ইকরার মা রেবেকা সুলতানা, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের অনেকেই একই অভিযোগ তুলেছেন। 

রোববার ঢাকার পল্লবী থানায় আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। 

zaher
স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে জাহের আলভী

ময়মনসিংহের ভালুকায় রোববার বাদ আসর ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে সোমবার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তার জবাব দেন এই অভিনেতা।

/একেবি/