রাফিউজ্জামান রাফি
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
জলদস্যু, প্রভাবশালী নেতা, পুলিশ অফিসার রূপে ক্যামেরার সামনে এসে দর্শকদের মন ভরিয়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। পর্দার পেছনেও নিজেকে প্রমাণ করলেন। নির্মাতা হিসেবে ‘জ্বীনের বাচ্চা’ দিয়ে সকল প্রশংসা নিজের করে নিয়েছেন। গতকাল শনিবার মোস্তাফিজুর নূর ইমরানের সঙ্গে ফোনালাপ জমেছিল ঢাকা মেইলের।
গল্প বলার ক্ষুধা থেকে নির্মাণে আসা। কতটা বলতে পারলেন?
যেভাবে বলতে চেয়েছি শতভাগ হয়তো সেভাবে পারিনি। কিন্তু কাছাকাছি চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় যারা বোঝার তারা বুঝবেন।
ক্যামেরার পেছনের কাজের অভিজ্ঞতা…
ক্যামেরার পেছনে আগেও কাজ করেছি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রোডাকশনে কাজ করেছি, অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর ছিলাম। ‘আমরা একটা সিনেমা বানাবো’র মতো প্রোডাকশনে ছিলাম। নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা মেথডিকা থেকে ‘সাহস’, ‘জাহান’ প্রযোজনা করেছি। ওই জায়গা থেকে ক্যামেরার পেছনের কাজের সঙ্গে পরিচয় আগে থেকেই। এবার সেটাকে ঝালিয়ে নিয়েছি। এর আগেও একটি কনটেন্ট বানিয়েছিলাম। সন্তুষ্ট হতে পারিনি বলে মুক্তি দিইনি।

নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘জ্বীনের বাচ্চা’-ই কেন বেছে নিলেন?
এ ধরনের গল্প আমার ভালো লাগে। মিথিক্যাল কাজ, হরর জনরা আমার পছন্দ। মিথিক্যাল হরর আরও পছন্দ। তবে ‘জ্বীনের বাচ্চা’কে সোশ্যাল হরর বলছি। এটা আমার বেশ পছন্দের জনরা। এ ধরণের গল্প নিয়ে মার্ভেল এন্টারটেইনমেন্ট, ডিজনির সঙ্গে কাজ করতে চাই। একটু ফ্যান্টাসি, রূপকথা, সুপার হিরো ফিল্মের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। ‘জ্বীনের বাচ্চা’য় ওই আবেশের মধ্যে দিয়ে সাব লেয়ারে অন্য একটা গল্প বলার ইচ্ছা ছিল। সে কারণে এই জনরা বেছে নেওয়া।
কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
এতটা রেসপন্স আশা-ই করিনি। প্রথম নির্মাণ দর্শক কীভাবে নেবেন তাই নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু আমি অভিভূত। চঞ্চল ভাই (চঞ্চল চৌধুরী), ইমতিয়াজ বর্ষণ যেভাবে দেখে অ্যাপ্রিশিয়েট করলেন! দেশের বাইরে থেকেও অনেকে ফোন করছেন। আজ (গতকাল শনিবার) অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন বললেন, সবসময় নারী প্রধান চরিত্রের কাজগুলোকে মনে হয় পুরুষতান্ত্রিক লেন্স থেকে দেখা। ‘জ্বীনের বাচ্চা’ দেখে সেরকম মনে হয়নি। পোস্টার প্রকাশের পর থেকে ভালোবাসা পাচ্ছি। আমার চাওয়া— কনটেন্টটা যেন প্রান্তিক মানুষদের কাছে পৌঁছায়। প্রযোজনা সংস্থাকেও অনুরোধ করেছি।
জ্বীন-ভূত বলতে আমরা ভয়ংকর অবয়ব বুঝি। ‘জ্বীনের বাচ্চা’-এ দেখলাম বিপরীত। কেন?
‘অ্যাপোক্যালিপস’ নামে একটা ছবি আছে। সেখানে মার্লোন ব্রান্ডোর একটা স্পিচ আছে। স্পিচটার টাইটেল হচ্ছে হরর। সত্যিকার হরর বলতে আসলে কী বোঝায়— ওই স্পিচের সারমর্ম। স্পিচটা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাছাড়া আমরা জিন-ভূত শুনলে ভয় পাওয়ার কথা ভাবি। কিন্তু তার সঙ্গে একটা দারুণ সম্পর্কও হতে পারে। কিংবা এই সমাজ, মানুষ— যাদের ভয় পাওয়ার কথা না, যাদের নিয়ে সমাজ গঠিত, মিলেমিশে চলার কথা সেই সমাজ-ই তো সবচেয়ে ভয়ের জায়গা! তাই একটা বৈপরীত্য দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি।

অনেক অভিনেতা নিজের নির্মাণে কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকেন। আপনাকে দেখা-ই গেল না!
এরকম ইচ্ছা নেই। ‘সাহস’ ও ‘জাহানে’ও ইচ্ছা ছিল না। বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে। এটাতে সেরকম বাধ্যবাধকতা ছিল না।
নিজেদের নির্মাণে অনেকে স্ত্রীকে প্রাধান্য দেন। মৌসুমী হামিদের স্থলে অর্ষাকেও নির্বাচন করতে পারতেন...
আমরা অডিশন নিয়েছিলাম। অর্ষার বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল সাঁতার। কিন্তু চরিত্রটার জন্য সাঁতার জানা জরুরি ছিল। তাছাড়া অর্ষা নিজেই মৌসুমীর কথা বলছিল। আমাদেরও বারবার মনে হচ্ছিল জ্বীনের গল্পের জন্য যে ইমেজটা দরকার তার জন্য মৌসুমীর বিকল্প নেই। তাছাড়া সে অসাধারণ অভিনেত্রী। তাকে নিয়ে বেশি এক্সপেরিমেন্ট করা হয়নি। ওই জায়গা থেকে মৌসুমীকে নেওয়া।
নির্মাণে নিয়মিত হবেন?
দীর্ঘদিন থিয়েটারে ডিরেকশন দিয়েছি। কাজগুলো আনন্দ দিয়েছে। দর্শকদেরও প্রশংসা পেয়েছি। ওটা অনেকদিন বন্ধ থাকায় মনে হচ্ছিল গল্প যেহেতু কোথাও বলতে পারছি না তাহলে স্ক্রিনে বলি। আর প্রশংসাটা অভিনয়ের মতোই দায়িত্ব বাড়িয়ে দিল। এরপর যে কাজ করব সেটা এর থেকেও ভালো হতে হবে। আমার অনেক গল্প বলার ইচ্ছা আছে। মেথডিকাতে যারা কাহিনি নিয়ে কাজ করছি আমাদের মধ্যে অবসরে গল্প ডেভেলপ করার চর্চা তৈরি হয়েছে। 
‘রইদ’ নিয়ে কিছু বলুন…
আমার কাজগুলোর মধ্যে ‘রইদ’ সেরা। আমার যতদিন স্মৃতিশক্তি থাকবে ততদিন ‘রইদ’ স্মৃতিতে অম্লান থাকবে। ‘রইদ’-এর জন্য অপেক্ষা করছি। পুরো পরিবার, বন্ধ্ আত্মীয়-স্বজন নিয়ে বড়পর্দায় ছবিটা দেখতে চাই।
আরআর