বিনোদন ডেস্ক
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
অভিনেতা ওমর সানীর ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ রেস্তোরাঁয় এক ক্রেতাকে কুপিয়ে জখম ও মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার দুই কর্মীকে।
রোববার (১৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- জীবন (২৫) ও মুন্না (২২)।
এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ রেস্টুরেন্টে ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান খান তার ৪-৫ জন বন্ধুকে নিয়ে খেতে যান। সেখানে কয়েকজন নারী কাস্টমারের সঙ্গে আসামিদের দুর্ব্যবহার ও অনৈতিক আচরণ করতে দেখে তারা প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আতিকুর রহমান ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভুক্তভোগীরা প্রাণভয়ে মূল সড়কের দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আসামি মো. ইমরান ধারালো ছুরি দিয়ে আতিকুর রহমানের পিঠে আঘাত করেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আসামি লিখন লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করলে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। অন্য আসামিরাও তাকে ও তার বন্ধুদের মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান খানের চাচা মো. খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ সদর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ কর্ণধার ওমর সানী দাবি করেছিলেন, লিখন মাদকাসক্ত ও অসদাচরণকারী হওয়ায় এ ধরনের অপকর্ম ঘটিয়েছে। তবে একজন কাস্টমারের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হলো, সেটি তিনিও বুঝতে পারছেন না। তিনিও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
গণমাধ্যমকে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, ঘটনার পর তিনি নিজেই পুলিশ ও সেনাসদস্যদের ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লিখনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেছেন। ব্যস্ততার কারণে এখনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হয়নি।