জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
রাজধানীর সরকারি গার্হস্থ্য কলেজের অধ্যক্ষকে অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সকল ক্লাস বন্ধ রাখা এবং বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে পুলিশি হামলার পাশাপাশি যারা এ হামলায় মদদ দিয়েছেন সেসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজের আগে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কলেজে গত রাতে যেসব পুলিশ হামলা করেছেন এবং এই হামলার নেপথ্যে কলেজের যেসব কর্মচারী কর্মকর্তা মদদ দিয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কারসহ স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে আমরা শিক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমাদের দুটি দাবি হলো— এই কলেজের অধ্যক্ষ মেহেরুননেসাকে সব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব কার্যক্রম ও ক্লাস এবং পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। কোন প্রকার মৌখিক আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। কলেজের যেসব কর্মচারীর মদদে ক্যাম্পাসে পুলিশি হামলা হলো তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার আমরা যতদিন না পাচ্ছি আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরছি না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গেল বছরের ডিসেম্বরে অধ্যক্ষ মেহেরুননেসা এই কলেজে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর ছাত্রীরা তাকে গিয়ে ক্যান্টিনের খাবারের মান খারাপ, খাবারে তেলাপোকা, মশা, মাছি ও নানা পোকামাকড় ময়লা পাওয়া যায়; এজন্য খাবারের মান বৃদ্ধির দাবি জানালেও তিনি কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এরপর এক রাতে আমাদের হলের ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্রী হঠাৎ করে ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তারা কান্টিনের খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিং হয়ে অসুস্থ হয়েছে। এরপর আমরা ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়েছে বলে অধ্যক্ষকে জানালে তিনি দুই দিন ক্যান্টিন বন্ধ রাখার পর আবারও চালু করেন। আমরা দাবি করেছিলাম ক্যান্টিন পরিচালনাকারী মমিনকে বাদ দিতে। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথাই শোনেননি।

এ ছাড়াও কলেজের বর্ধিত ফি কমানো, কলেজের হলে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাত্রীরা থাকেন তাদেরকে বের করে দেওয়াসহ নানা দাবি জানালেও তিনি আমাদের কোনো দাবিই রাখেননি।
এমআইকে/এফএ