Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

জাপানি-কোরীয়সহ বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষার্থীদের বিদেশি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সেন্টারে চীনা, জাপানি, কোরীয়, আরবি, জার্মান, ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস (বিআইএল) আয়োজিত ‘এপিস্টেমিক রিকনফিগারেশনস ইন ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ (ইআরএলএস) ২০২৬’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। 

‘ডিকলোনিয়াল ডায়ালগস, ট্রান্সফরমেটিভ পাথওয়েজ অ্যান্ড এমপাওয়ার্ড প্র্যাকটিসেস’ প্রতিপাদ্যে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন শুধু বাড়তি শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, আন্তর্জাতিক গবেষণা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

তিনি বলেন, সরকার বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।

বিদেশের শ্রমবাজারে ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের চাহিদা বিবেচনায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাপানি, কোরীয়, চীনা, ইংরেজি ও আরবি ভাষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ সুযোগ আরও বাড়ানো গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে বিদেশি ভাষা শেখার পাশাপাশি মাতৃভাষার গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে বাংলা ভাষার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তাই বিদেশি ভাষা শিক্ষার প্রসার ঘটাতে গিয়ে মাতৃভাষাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বাংলা ও বিদেশি ভাষার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রেখেই শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বাংলা হবে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি, ইংরেজি হবে বৈশ্বিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম এবং অন্যান্য বিদেশি ভাষা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ভাষা শেখার বিষয়টি শুধু যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানুষের চিন্তাভাবনা, জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতি বোঝার ক্ষমতাকেও সমৃদ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব কেবল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়া নয়; বরং তাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করা, বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের সক্ষমতা তৈরি করা।

এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বহুভাষিক শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও ভাষাবিষয়ক গবেষণার একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কার্যকর পদ্ধতি তৈরি, দক্ষ ভাষাশিক্ষক গড়ে তোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়, দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে বিআইএলের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগে দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও শিক্ষাগত অগ্রাধিকার বিবেচনায় রাখতে হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সৈয়দা সারওয়াত আবেদ বক্তব্য দেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন বিআইএলের পরিচালক ও সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক শায়লা সুলতানা।

সম্মেলনে ভাষা শিক্ষায় ঔপনিবেশিক প্রভাব, বহুভাষিকতা, শিক্ষকদের স্বায়ত্তশাসন, গবেষণাপদ্ধতিতে উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত ভাষা শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা।

এমএইচ/এসআই