নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় বিভাগভেদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। বিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও বিজ্ঞান বিভাগ অন্য দুই বিভাগের চেয়ে এগিয়ে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার গ্রেডভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৭১ জন, যা ওই বিভাগের মোট ছাত্রের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ হাজার ২৮৫ জন, যা মোট ছাত্রীর ৮ দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থাৎ এই বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জনে সংখ্যার পাশাপাশি শতকরা হারেও ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছেন।
বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর নিচে পেয়েছেন ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। ছাত্রীদের মধ্যে এই হার ২৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। আবার জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর নিচে ছাত্রদের হার ১৭ শতাংশ, ছাত্রীদের ২০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ফলে সর্বোচ্চ গ্রেডে ছাত্ররা এগিয়ে থাকলেও তার পরের দুটি গ্রেডে ছাত্রীদের অবস্থান তুলনামূলক ভালো।
মানবিকে জিপিএ-৫-এর হার এক শতাংশের কাছাকাছি
মানবিক, ইসলামী শিক্ষা, সংগীত ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ফলাফলে উচ্চতর গ্রেড অর্জনের হার বিজ্ঞানের তুলনায় অনেক কম। এই বিভাগের ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৪ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। ছাত্রীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৯৪ জন, যা মোট ছাত্রীর ১ দশমিক ০২ শতাংশ।
জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর নিচে পেয়েছেন মানবিক বিভাগের ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ ছাত্র এবং ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ ছাত্রী। জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর নিচে ছাত্রদের হার ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ছাত্রীদের ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
একইভাবে জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর নিচে পেয়েছেন ৯ দশমিক ২০ শতাংশ ছাত্র এবং ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছাত্রী। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের উচ্চতর ও মধ্যবর্তী গ্রেডগুলোতে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন।
ব্যবসায় শিক্ষায়ও এগিয়ে ছাত্রীরা
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩৫৪ জন, যা মোট ছাত্রের ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বিপরীতে ছাত্রীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৯১৪ জন, যা মোট ছাত্রীর ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এই বিভাগে জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর নিচে পেয়েছেন ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ ছাত্র এবং ১২ দশমিক ০২ শতাংশ ছাত্রী। জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর নিচে ছাত্রদের হার ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, ছাত্রীদের ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর নিচে ছাত্রদের হার ১০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে জিপিএ-২ থেকে ৩-এর নিচে পেয়েছেন ১৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ ছাত্র ও ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ ছাত্রী।
এতে দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ থেকে শুরু করে মধ্যবর্তী গ্রেডগুলোতেও ছাত্রীরা তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে স্পষ্ট ব্যবধান
তিন বিভাগের ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জনের হার অন্য দুই বিভাগের তুলনায় অনেক বেশি। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ জিপিএ-৫ পেলেও মানবিক বিভাগের ছাত্রদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রদের মধ্যে এই হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
ছাত্রীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবধান রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ৮ দশমিক ০২ শতাংশ ছাত্রী জিপিএ-৫ পেলেও মানবিকে এই হার ১ দশমিক ০২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।
তবে ছেলে-মেয়েদের তুলনায় ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্ররা এগিয়ে থাকলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রীরা এগিয়ে। শুধু সর্বোচ্চ গ্রেড নয়, জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর নিচের গ্রেডেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রীরা তুলনামূলক ভালো করেছেন।
এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
এমএইচ/এফএ