নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করতে নয়টি বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। এর মধ্যে রয়েছে- দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন, স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দুই দেশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের ফাঁকে দুই দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অন্যদিকে চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে চীনের সহযোগিতা চান তিনি।
এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে চীনা মানদণ্ড অনুসরণ করে ডিপ্লোমা পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি চীনা সরকারের সহায়তায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন এবং সব কারিগরি কলেজে ‘চীনা ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন’ কোর্স চালুর প্রস্তাব তুলে ধরেন।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চীনা ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়।
শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোতে সমর্থন জানিয়ে চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা সংস্কার, স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন এবং চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতার নয়টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে কারিগরি শিক্ষা, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা সনদায়নের জন্য বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি শিক্ষা দল গঠন।
এ ছাড়া চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশে আধুনিক গবেষণাগার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগযুক্ত মডেল কারিগরি কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। বিদ্যমান কারিগরি কলেজগুলোর মান যাচাই ও উন্নয়নে চীনা বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্পকারখানায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
প্রকৌশল, উৎপাদন, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সেবামূলক খাতে চীনা ভাষার সঙ্গে কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতার সনদ অর্জন, শিল্পকারখানায় ইন্টার্নশিপ এবং পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক বিনিময় এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।
গৃহীত উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান এবং সহযোগিতার সামগ্রিক ফলাফল মূল্যায়নে একটি আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে চীনের ভাষা শিক্ষা ও সহযোগিতা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ইউ ইউনফেং, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় বিভাগের উপমহাপরিচালক লিউ ইয়ং এবং কারিগরি ও প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা বিভাগের উপমহাপরিচালক চি ইয়ানওয়েই উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচিত সহযোগিতা উদ্যোগগুলো সময়মতো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এমএইচ/এএম