শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

চীনের সঙ্গে যৌথ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

চীনের সঙ্গে যৌথ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাংলাদেশের
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন, যৌথ শিক্ষা কর্মসূচি চালু এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে উভয়পক্ষ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে বেশ কয়েকটি সহযোগিতামূলক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে উভয়পক্ষ।

এরআগে, তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী।

সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ দেশের জনগণ। এই মানবসম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তোলাই জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান এবং একাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব কাজের সংযোগ তৈরি করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কারণে বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় করতে হবে।’

বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেখানে পাঠ্যক্রম বাস্তব শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; শিক্ষকরা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের নিয়মিত হালনাগাদ রাখবেন; শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিল্প-সংযুক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো সরাসরি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, কারিগরি শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য শুধু নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়। বরং শিক্ষা, শিল্প ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা ও উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সফরে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কারিগরি শিক্ষাকে পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, নিজ নিজ দেশের শ্রমবাজার অনুযায়ী শিক্ষার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

‘TVET: Co-Embracing Change, Co-Forging Standards, Co-Creating Future’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, দেশটির স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদিসহ ইউনেস্কো, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর