Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

কওমি মাদরাসা নিয়ে অপপ্রচার বন্ধে ঐক্যের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, দ্বীনি শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষা ও অপপ্রচার মোকাবিলায় আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মীয় নেতারা। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, কওমি মাদরাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; বরং দেশের স্বাধীনতা, সমাজের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহ্য রক্ষায় আলেমদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শাইখুল হাদিস আল্লামা মহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা ওহিভিত্তিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে। এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য মানুষকে মানবতা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখানো। জাগতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না, তবে দ্বীনি শিক্ষার ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণা মোকাবিলায় আলেমদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদারাসা পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মাদরাসা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আল্লামা মহিউদ্দিন রব্বানী আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনে আলেমদের অবদান রয়েছে। ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। দেশের স্বার্থে আলেমদের ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই ধর্মীয় নেতা।

বক্তব্যে তিনি আলোচনাধীন একটি হেবা আইন নিয়ে আপত্তি তুলে ধরে বলেন, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন তারা মেনে নেবেন না। এ ধরনের আইন পাস হয়ে থাকলে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় আলেমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

এ ছাড়া নেকাব পরা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি।

এর আগে সভায় বক্তব্য দেওয়া আলেম আব্দুর রব ইউসূফি বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ও ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে আলেমদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তার ভাষ্য, কোরআন-সুন্নাহকে প্রাধান্য দিয়ে জাগতিক শিক্ষার সমন্বয় সম্ভব হলেও দ্বীনি শিক্ষার স্বকীয়তা বিসর্জন দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, কওমি মাদরাসার অবদান কেবল ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান বা শিক্ষার্থীদের ঈমান-আকিদা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতিম, অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রেও এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বেসরকারি মাদরাসাগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আলেমদের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। 

পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের তারবিয়াত ও আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু সনদ বা পদবি অর্জন নয়, নৈতিক ও আদর্শিক উন্নয়নকেও প্রাধান্য দিতে হবে।

বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ষড়যন্ত্রের কবলে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা: কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব ও কর্তব্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দেশের বিভিন্ন মাদরাসার আলেম ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৬০০ মাদরাসাকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বক্তারা বলেন, দ্বীনি শিক্ষার ঐতিহ্য রক্ষা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাদরাসাগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে কওমি মাদরাসার ইতিবাচক ভূমিকা আরও জোরদার করা সম্ভব।

এম/এআরএম