নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্লাস, পরীক্ষা ও ভাইভা বোর্ডে হিজাব ও নেকাব পরার বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রীকে নেকাব নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিচার দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে হিজাব ও নেকাব পরিহিত সংগঠনের নেত্রী সুমাইয়া ফাহমিদা বলেন, একজন ব্যক্তি কী পোশাক পরবেন, সেটি তার ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হওয়া কাম্য নয়।
তিনি বলেন, ‘২৪ পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমরা এমন পরিবেশ আশা করি না। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পক্ষ থেকে আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সংগঠনের নেতারা বলেন, হিজাব ও নেকাব পরিহিত ছাত্রীদের পরিচয় শনাক্ত করার নামে বিভিন্ন সময় হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংগঠনের আরেক নেতা সুমাইয়া নুসরাত মিম প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমাদের প্রশাসন কী করছে? বারবার কেন হিজাব-নেকাব নিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হবে?’
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে ক্লাস, ভাইভা বোর্ড ও পরীক্ষার হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রমে হিজাব ও নেকাব পরার বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে ডাকসু নেত্রী ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্পাদক আফছানা আক্তারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের কেউ সাংগঠনিক পদ-পদবি উল্লেখ করেননি বলে জানানো হয়।
এর আগে, বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) একটি ক্লাসে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ বলার অভিযোগ ওঠে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানান।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ওই শিক্ষকের কোর্সগুলো পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে তার কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সভায় একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘সেই রেজুলেশনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বর্তমানে তার কোর্সগুলো থেকে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে এবং কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।’
অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী আরও বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা একাডেমিক কমিটির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। বিভাগ থেকে ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এম/এএম