Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

ভিটেমাটিহীনতার বাধা কাটল, প্রাথমিকে শিক্ষক হওয়ার পথ খুলল মিশন আচার্যের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় আটকে গিয়েছিল ঝিনাইদহের সন্তান মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র। তবে সব অনিশ্চয়তা ও জটিলতার এবার চূড়ান্ত অবসান ঘটেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও আলোচনার মাধ্যমে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) সচিব মো. রাশেদ খান রোববার (৪ অক্টোবর) মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে দেখা করেন।

সাক্ষাৎকালে শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সব বাধা দূর করে মিশন আচার্যের নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেওয়া পোস্টে মো. রাশেদ খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

রাশেদ খান জানান, মিশন আচার্য নিয়োগপত্র হাতে পেতে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ২ দিনের সফর শেষে আজকে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ শহর এলাকার কলাবাগানে জন্মলগ্ন থেকে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন মিশন আচার্য। ছোটবেলায় পিতৃহীন হওয়ার পর তার গর্ভধারিণী মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে অত্যন্ত কষ্টে দুই ছেলেকে বড় তোলেন। 

মা-ছেলের অদম্য প্রচেষ্টায় মিশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫ এ মেধার স্বাক্ষর রেখে চূড়ান্ত সুপারিশ পান।

কিন্তু নিজস্ব ভিটেবাড়ি না থাকার কারণে ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত জটিলতায় তার নিয়োগ আটকে যায়। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর তা নজরে আসে মো. রাশেদ খানের।

এদিকে রাশেদ খান প্রথমে বিষয়টি নিয়ে মানবিক আবেদন তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রীকে ডি.ও পত্র প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে মিশনকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে নিয়োগ নিশ্চিত করেন।

বিইউ/এএম