Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

জানুয়ারিতে এসএসসি ও ফেব্রুয়ারিতে এইচএসসির পরিকল্পনা হচ্ছে: মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় নষ্ট হওয়া ঠেকাতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনার চিন্তা করছে সরকার।

এক্ষেত্রে জানুয়ারিতে এসএসসি ও ফেব্রুয়ারিতে এইচএসসি নেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জানুয়ারিতে এসএসসি এবং এরপর ফেব্রুয়ারিতে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই বছর সময় বাঁচানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া বর্ষাকালে পরীক্ষা নেওয়ায় আবহাওয়াজনিত নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। হাজার হাজার পরীক্ষা কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এ কারণে পরীক্ষার মৌসুম এগিয়ে আনা প্রয়োজন।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার চিন্তা হচ্ছে ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষ করা। জানুয়ারিতে এসএসসি, এরপর ফেব্রুয়ারিতে এইচএসসি—এভাবে যদি করা যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও এর সঙ্গে সমন্বয় করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট হবে না।’

বর্তমান পরীক্ষা ও ভর্তি ব্যবস্থার কারণে একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেকে প্রায় দুই বছর নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ছয় বছর বয়সে স্কুলে যাওয়া একজন শিক্ষার্থীর ১৬ বছরের মধ্যে এসএসসি পাস করার কথা। কিন্তু এ পরীক্ষা এপ্রিলে হওয়া এবং পরে ফল প্রকাশ ও ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে করতে বয়স প্রায় ১৭ বছর হয়ে যায়। একইভাবে উচ্চমাধ্যমিকের দুই বছর শেষ করার পর পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় আরও সময় চলে যায়। ফলে ১৮ বছর বয়সে দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা প্রায় ২০ বছরে গিয়ে ঠেকে।’

এই সময় নষ্ট হওয়ার দায় শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকেই নিতে হবে মন্তব্য করে ড. মিলন বলেন, ‘অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেকে প্রায় দুই বছর নষ্ট হচ্ছে। এই দুই বছর কার অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে? সরকারের, ব্যবস্থাপনার। এই দায় আমাদের নিতে হবে।’

এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী থাকায় প্রত্যেকের জীবন থেকে দুই বছর করে চলে যাওয়ার সামগ্রিক প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তার ভাষ্য, এতে দেশের বড় ধরনের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ নষ্ট হচ্ছে।

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির মধ্যেই শেষ করার চিন্তা তার ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।

প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার বিভিন্ন ধাপের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েও শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনার পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এবার প্রশ্নপত্রের একাধিক সেট করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব সেট একই জায়গায় ছাপানো হবে না। কারণ একই জায়গায় একাধিক সেট থাকলে একটি সেট ফাঁস করতে সক্ষম ব্যক্তি অন্য সেটগুলোও ফাঁস করার সুযোগ পেতে পারেন। এ কারণে প্রশ্ন তৈরি ও মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।’

সর্বশেষ একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে সমস্যার কারণে তিনবার প্রশ্ন পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

মন্ত্রীর ভাষ্য, একবার বৃহস্পতিবার একটি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে সমস্যার খবর পাওয়ার পর শুক্রবার নতুন প্রশ্ন ছাপিয়ে শনিবার তা সরবরাহ করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরকে আলাদাভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যে সময় নষ্ট হচ্ছে, সেটি কমাতে পরীক্ষা, ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী ধাপে ভর্তির সময়সূচির মধ্যে সমন্বয় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

এমএইচ/এএম