দেশের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে গবেষণা প্রকল্প প্রস্তাব করা হলে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একইসঙ্গে গবেষণার ফল বাস্তবে মানুষের সমস্যা সমাধানে কতটা কাজে আসছে, অর্থায়নের ক্ষেত্রে সেটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘খুদে গবেষক সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গবেষকেরা সুনির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে সেটির সমাধানের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব করলে ইউজিসি অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে। গবেষণার ফলে বাস্তবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
দেশের গবেষণার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গবেষণায় বিপুল অর্থায়ন করেছে। অনেক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এবং গবেষকেরা সাইটেশনও পেয়েছেন। কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান হয়নি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, গবেষণাপত্র তৈরি হয়েছে, আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, সাইটেশনও হয়েছে। কিন্তু মানুষের যে বাস্তব সমস্যা, অনেক ক্ষেত্রে সেই সমস্যা থেকেই গেছে।
এ কারণে গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। দেশের সুনির্দিষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে গবেষণায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।
যানজট, বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও লবণাক্ততার মতো সমস্যার উদাহরণ দিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসতে হবে। আজকের খুদে গবেষকদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বিজ্ঞানী তৈরি হবে।
গবেষণার জন্য বয়স, দামি যন্ত্রপাতি কিংবা বড় ল্যাবরেটরি জরুরি নয় বলেও মন্তব্য করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, নিজের চারপাশের সমস্যা চিহ্নিত করে হাতের কাছে থাকা উপকরণ দিয়ে তার সমাধানের চেষ্টা থেকেই গবেষণার শুরু হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে শুরু হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। খুদে গবেষকেরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, পরিবেশ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের চারপাশের সমস্যা নিয়ে কাজ করেছে। সমস্যা সমাধানে তারা নিজেদের চিন্তাশক্তি ও হাতের কাছে থাকা উপকরণ ব্যবহার করেছে।
গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সাহস, উদ্দীপনা, অনুসন্ধিৎসু মনোভাব ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক মামুন বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেটির সমাধানের পথ খুঁজে বের করার সক্ষমতাই গবেষণার মূল বিষয়।
খুদে গবেষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আমাদের চারপাশের সমস্যার সমাধান করবে।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ৩১৮ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা ১২৮টি গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপন করে।
'চিন্তার চাষ’-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক আসজাদুল কিবরিয়া প্রমুখ।
এমএইচ/এএম




