Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

রাবির ১১ শিক্ষককে ‘সর্বহারা’র পরিচয়ে হত্যার হুমকি, চাঁদা দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্য ও সিরাজ শিকদারের ভাই পরিচয়ে ফোন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অন্তত ১১ শিক্ষককে হত্যার হুমকি ও চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক শিক্ষক নগরীর মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন।

হুমকিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক কৌশিক সরকার, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক আশুতোষ ব্যানার্জি। বাকিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় শিক্ষক ও তাদের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন

মাদরাসা শিক্ষকদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের চেক ছাড়

হুমকি পাওয়ার পর নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় জিডি করেন অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন। পাশাপাশি কল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি রাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে জানান তিনি। প্রক্টর তাকে জানান, সম্প্রতি রাবির আরও কয়েকজন শিক্ষকও একই ধরনের ফোন পেয়েছেন।

অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে দুইবার কল আসে। ব্যস্ত থাকায় প্রথমবার কল ধরতে পারিনি। তবে দুই ঘণ্টা পর বেশ লম্বা সময় কথা হয়। আমি কত টাকা দিতে পারব, তা জানতে চাওয়া হয় এবং নানাভাবে হুমকিও দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, পুলিশ নম্বরটি ট্র্যাক করে জানতে পারে, কলটি মাদারীপুর থেকে এসেছে। সিমকার্ডটি রেজাউল করিম নামের একজনের নামে নিবন্ধিত।

হুমকি পাওয়া আরেক শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমাকে কল করে বলা হয়, ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আমলে আমাদের অনেক নেতাকর্মী জেলে আছে, তাঁদের ছাড়াতে অর্থ দিতে হবে। তখন আমি বললাম, এখন তো ফ্যাসিবাদ নেই, আপনারা বের করে নেন, আমাকে কেন বলছেন। একজন শিক্ষকের কতটুকু টাকা থাকতে পারে, আমার পক্ষে সম্ভব না।’

198128_160

সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির বলেন, ‘এটা নতুন একটা প্রতারণা। একটা চক্র নম্বর সংগ্রহ করে সম্মানিত ব্যক্তিদের হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করতে চায়। আমরা এ পর্যন্ত যতজনকে আইডেন্টিফাই করেছি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, খুবই দূরবর্তী জেলার নিম্নমানের একজন লোক ফোন দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চেষ্টা করে যে, যত টাকাই নিতে পারুক—একশত বা দুইশত—এটাই তার লাভ। এরপর ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগ যেহেতু এসেছে, আমরা অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

প্রতিনিধি/এসএস