Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

কওমি থেকে এসএসসি-এইচএসসি, কতটা খুলবে উচ্চশিক্ষার পথ?

মাহফুজ উল্লাহ হিমু

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

  • কওমি শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফেরার নতুন পথ
  • এসএসসি-এইচএসসিতে কওমি শিক্ষার্থীদের সুযোগ
  • ২০২৭ সালে শুরু হবে বাউবির ‘নিশ-৩’
  • কোরআন-হাদিসের সঙ্গে থাকবে বাংলা-ইংরেজি-গণিত
  • খুলবে কওমি ও ঝরে পড়াদের উচ্চশিক্ষার দুয়ার

কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হলেও এর নিচের পর্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে প্রচলিত কোনো ডিগ্রির সরাসরি সংযোগ নেই। ফলে কওমি ধারায় পড়াশোনা করা কোনো শিক্ষার্থী প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরতে চাইলে সেই সুযোগ সীমিত। এবার সেই শিক্ষার্থীদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার নতুন পথ তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। একই সুযোগ রাখা হচ্ছে আলিয়া মাদরাসা থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্যও।

‘নিশ-৩’ নামে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে নতুন দুটি প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাউবি। ইতোমধ্যে একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর কারিকুলাম ও সিলেবাস তৈরি হয়েছে। সম্পন্ন হয়েছে একাডেমিক ও পরীক্ষাসংক্রান্ত রেগুলেশনের কাজও। এখন চলছে স্টাডি সেন্টারের তালিকা তৈরির কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা।

এই প্রোগ্রামে কওমি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শিক্ষার বিষয়গুলোও রাখা হচ্ছে। কোরআন, হাদিস, আরবি ও ফিকহের সঙ্গে তাদের পড়তে হবে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতসহ সাধারণ বিষয়। এরপর এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করে যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে পারবেন তারা। একই সঙ্গে যেসব চাকরিতে প্রচলিত এসএসসি-এইচএসসি সনদ প্রয়োজন, সেখানেও যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদনের সুযোগ তৈরি হবে।

উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তার মতে, মূল শিক্ষাধারা থেকে বাইরে থাকা বা ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরে আসার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে এমন বিকল্প সুযোগ তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কেন মূল ব্যবস্থা থেকে ঝরে পড়ছে, সেই সমস্যারও সমাধান করতে হবে।

ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগটি আপাতদৃষ্টিতে ভালো এবং সাধুবাদ পাওয়ার মতো। যারা কোনো কারণে ঝরে পড়েছে, তাদের আবার শিক্ষার মূলধারায় ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে। কওমি ও আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য এমন সুযোগ অবশ্যই থাকা দরকার। কিন্তু এটিকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।’

যে কারণে নতুন প্রোগ্রাম

বাউবি কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। কিন্তু দাওরায়ে হাদিসের আগের স্তরগুলোর সঙ্গে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ডিগ্রির সরাসরি সংযোগ না থাকায় তাদের মূলধারার শিক্ষা ও পরবর্তী উচ্চশিক্ষায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ সীমিত। এই জায়গা থেকেই নতুন প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাউবির স্কুল অব এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের ইতোমধ্যে একই ধরনের প্রোগ্রাম রয়েছে। তবে আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কওমি মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তাদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্যই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে।’

কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কওমি মাদরাসা থেকে যারা দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন, তাদের মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর নিচের পর্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে প্রচলিত কোনো ডিগ্রির সরাসরি সংযোগ নেই। এ কারণেই আমরা উদ্যোগটি নিয়েছি। একজন শিক্ষার্থী এখান থেকে এসএসসি করবে, এরপর এইচএসসি করবে। এইচএসসি শেষ করার পর সে যোগ্যতা অনুযায়ী যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে পারবে। এর মাধ্যমে সে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন চাকরিতেও আবেদন করতে পারবে।’

এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘নতুন প্রোগ্রামের আওতায় কওমি ধারার সব আগ্রহী শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আলিয়া ধারার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরাও এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ যারা কোনো কারণে প্রচলিত ধারায় পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তাদের জন্যও দ্বিতীয়বার শিক্ষায় ফেরার সুযোগ তৈরি হবে।’

গত ১ সেপ্টেম্বর বাউবির ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রে ‘বাউবিতে এসএসসি (নিশ-৩) ও এইচএসসি (নিশ-৩) প্রোগ্রামের সিলেবাস ও রেগুলেশন’ নিয়ে দুই দিনের কর্মশালা শুরু হয়। সেখানে বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য দ্বিতীয়বার শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য। কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে এসএসসি নিশ-৩ ও এইচএসসি নিশ-৩ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ধর্মীয় শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রেখেই জাতীয় ও মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।’

ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে থাকবে সাধারণ বিষয়

কওমি শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করতে গিয়ে তাদের এতদিনের ধর্মীয় শিক্ষাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বরং কওমি ধারার বিষয় এবং সাধারণ শিক্ষার প্রয়োজনীয় বিষয় মিলিয়ে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে।

অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিশেষায়িত জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা এসএসসি-এইচএসসি প্রোগ্রাম পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাউবির আগে থেকেই রয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যেসব সদস্য অষ্টম শ্রেণি পাস করে চাকরিতে প্রবেশ করেছিলেন, তাদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম রয়েছে। সেখানে সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি তাদের পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিষয় রাখা হয়েছে। একই ধারণায় কওমি শিক্ষার্থীদের জন্যও তাদের নিজস্ব শিক্ষার বিষয়গুলো কারিকুলামে যুক্ত করা হয়েছে।’

এই অধ্যাপক বলেন, ‘কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যেসব বিষয় পড়ে, যেমন: কোরআন, হাদিস, আরবি ও ফিকহর মতো বিষয়গুলো তাদের কারিকুলামের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও গণিতসহ অন্যান্য সাধারণ বিষয়ও থাকবে। অর্থাৎ সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষ বিষয়গুলোও কারিকুলামে যুক্ত করা হয়েছে।’

২০২৭ সালে ভর্তি, সনদ মিলবে ২০২৯ সালে

নতুন প্রোগ্রামটি ইতোমধ্যে বাউবির একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন পেয়েছে। এরপর কারিকুলাম কমিটি গঠন করে কারিকুলাম ও সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। একাডেমিক রেগুলেশন এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত রেগুলেশনও তৈরি হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্টাডি সেন্টারের তালিকা তৈরির কাজ করছে। স্টাডি সেন্টার চূড়ান্ত হলে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ব্যাচে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। বাউবির পদ্ধতিতে প্রোগ্রামটি প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ—দুই ভাগে পরিচালিত হবে। ২০২৭ সালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের নির্ধারিত কোর্স শেষ করে ২০২৮ সালে পরীক্ষা দেবেন। এরপর দ্বিতীয় বর্ষের কোর্স শেষ করে ২০২৯ সালে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে চূড়ান্তভাবে পাস করতে পারবেন।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত এসএসসির মতো সব বিষয়ের পরীক্ষা একসঙ্গে দিতে হয় না। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে কোর্স ভাগ করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব কোর্স সফলভাবে শেষ করার পর মিলবে চূড়ান্ত ফল ও সনদ। এ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কোনো বিষয়ে ফেল করলে বা পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলেও সব বিষয়ে নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে না।

অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কোনো বিষয়ে ফেল করলে বা কোনো পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে তাকে সব বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিতে হবে না। পরবর্তী সময়ে শুধু ওই বিষয়টির পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারবে।’

উচ্চশিক্ষার পথ খুলবে কতটা?

বাউবির পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রোগ্রামটি বাস্তবায়িত হলে কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার একটি নতুন পথ তৈরি হবে। এইচএসসি শেষ করার পর যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন তারা। ফলে কওমি শিক্ষায় থাকার কারণে প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে যে সংযোগের ঘাটতি রয়েছে, নতুন প্রোগ্রামটি সেই ব্যবধান কমানোর একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এই ধরনের নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের শিক্ষা আরও বেশি নন-ফরমাল ও ফ্লেক্সিবল হবে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় সুবিধাই হচ্ছে নমনীয়তা। তারা একজন শিক্ষার্থীকে তার পরিস্থিতি অনুযায়ী মূল্যায়ন করে আবার মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে। আগামী ২০, ২৫, ৩০ বা ৫০ বছর পর এখনকার ফরমাল শিক্ষার কাঠামো একই রকম থাকবে না বলেই আমি মনে করি। এআই ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাবের কারণে শিক্ষা আরও নমনীয় হবে।’

তবে শুধু বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করলেই শিক্ষাব্যবস্থার মূল সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন এই শিক্ষাবিদ। বিশেষ করে আলিয়া ধারার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কেন তারা ঝরে পড়ছেন, সেই কারণ খুঁজে সমাধান করার ওপর জোর দেন তিনি।

অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, ১০ বছর পড়াশোনা করার পর একজন শিক্ষার্থী কেন ফেল করবে? আমাদের আগে এই জায়গাটি দেখতে হবে। আমরা এখন একজন শিক্ষার্থীকে তিন ঘণ্টার একটি পরীক্ষা দিয়ে মূল্যায়ন করছি। এর পরিবর্তে স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক অ্যাসেসমেন্ট ব্যবস্থা, যেটাকে আমরা ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্ট বলি, সেটাকে শক্তিশালী করা দরকার। কারণ ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকই সবচেয়ে ভালো জানেন কোন শিক্ষার্থী কেমন, কোন বিষয়ে সে কতটুকু পারে এবং কোথায় তার ঘাটতি রয়েছে।’

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এত শিক্ষার্থী কেন ফেল করবে? আমাদের মানদণ্ড কোথায়, সমস্যাটা কোথায়—এগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষকস্বল্পতা, শিক্ষকের যোগ্যতার ঘাটতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার অভাব, কারিকুলামের সমস্যা নাকি অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতির সমস্যা, কোন জায়গায় ঘাটতি, সেটি আগে শনাক্ত করতে হবে। সেটি না করে শুধু ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করলে মূল সমস্যাটি থেকেই যাবে।’

মূল ব্যবস্থার সংস্কারের পরও যারা বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়বেন, তাদের জন্য বাউবির মতো নমনীয় ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। 

অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘মূল ব্যবস্থাটি ঠিক করার পরও শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করবে, এমন কথা আমরা বলছি না। তখনও হয়তো ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করবে বা কেউ ঝরে পড়বে। তাদের জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নমনীয় ব্যবস্থা প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকে আমি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।’

এমএইচ/জেবি