বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডাবল ডেকার বাস ‘গোধূলী’তে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়ায় ফেরার পথে শহরের জেলখানা মোড়ে বাস থেকে নামার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
ঘটনায় জড়িত জুনিয়র শিক্ষার্থীরা হলেন- বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় ও বাপ্পি হোসেন। অপরদিকে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা হলেন আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আবু সাঈদ ও শামিম। এ সময় তাদের সঙ্গে একই বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের হাসান, জিসান, নাফিস ও সিয়াম ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ১টার ডাবল ডেকার বাস ‘গোধূলী’ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে বাসে আইসিটি বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে গল্প করছিলেন বলে অভিযোগ করেন জুনিয়র শিক্ষার্থীরা। জেলখানা মোড়ে বাস থেকে নামার সময় এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
জুনিয়র শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম হৃদয়ের দাবি, সিনিয়র শিক্ষার্থীদের উচ্চস্বরে গল্প করার বিষয়ে আপত্তি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাপ্পি হোসেনের সঙ্গে তর্কে জড়ান। পরে তিনি বিষয়টির প্রতিবাদ করলে সিনিয়রদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি বাসের জানালার কাচের ওপর পড়ে আহত হন।
হৃদয় বলেন, তাদের সঙ্গে থাকা তিনজন আমাকে ধাক্কা দিলে আমি বাসের জানালার ওপর গিয়ে পড়ি। এতে জানালার কাচ ভেঙে আমার কাঁধ ও ঘাড়ে ক্ষত হয়। পরে নাকেও আঘাত করা হয়। বাসের বাইরে আশপাশের লোকজন আমার নাকে পানি দিতে গেলে, সেই ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা আমার বন্ধু বাপ্পি হোসেনের কাছ থেকে ফোন কেড়ে নেয় এবং ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য হুমকি দেয়। সেসময় তাকেও আঘাত করে তারা।
অন্যদিকে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থী আবু সাঈদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা চারজন বন্ধু ক্যাম্পাস একসাথে বসে গল্প করতে করতে ফিরছিলাম। ওরা দুজন সামনে বসছিল। জেলখানা মোড়ে বাস থেকে নামার সময় বাপ্পি এসে বলতেছে ‘তোমরা ম্যানারলেস, তোমাদের কোনো আদব কায়দা নাই, তোমরা কিছু শিখো নাই, এই তোমরা কোন সেশনের? আর এই বাসের মধ্যে এত কিসের?’ এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
আবু সাঈদের আরও বলেন, বাপ্পির সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে, তবে আমাদের মধ্যে কোনো হাতাহাতি হয়নি। পরে বাংলা বিভাগের হৃদয় পেছন থেকে এসে আমাকে ধাক্কা দিলে আমি বাসের কাচের ওপর পড়ে যাই। এতে কাচ ভেঙে আমার হাতে কেটে যায় এবং বর্তমানে হাতে ব্যান্ডেজ করা আছে।
অপরদিকে, হাত কেটে যাওয়ার ঘটনায় অভিযোগ অস্বীকার করে হৃদয় বলেন, হাতাহাতির সময় তার হাত কাটেনি। কেটেছে আমাকে মারার জন্য কাঠ ভেঙে নিতে গিয়ে।
এদিকে ঘটনাস্থলে বাপ্পি হোসেন ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ সময় পেছন থেকে আবার হামলার চেষ্টা হলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী শামিম তাকে কলার ধরে থামান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান বলেন, আমি দুই বিভাগের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি তারা উভয়েই শিক্ষার্থীদের শান্ত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের আগামীকাল (বুধবার) লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। আগামীকাল (বুধবার) উভয়পক্ষ বসে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রতিনিধি/এলএ