Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরামত-সংস্কার, আসবাব ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, পাঠাগার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজেও দেওয়া হবে এই অনুদান। 

এবার ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন যাচাই শেষে জেলা কমিটির সুপারিশ করা তালিকা আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেটের আওতায় বিশেষ অনুদানের অর্থ বিতরণের জন্য চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত, দুর্গম, উপকূলীয়, চরাঞ্চল ও হাওর এলাকার অনেক সম্ভাব্য আবেদনকারীর অনলাইনে আবেদনের সুযোগ সীমিত ছিল। এ কারণে নতুন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশেষ অনুদানের আওতায় বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনা, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য আবেদন করতে পারবে।

বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে তারা দুরারোগ্য ব্যাধি অথবা দৈব দুর্ঘটনার কারণে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বিশেষ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত, দুস্থ, মেধাবী, এতিম, অদম্য মেধাবী ও দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় এবং অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা প্রধান শিক্ষককে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

স্নাতক বা সমমান এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা আবেদন গ্রহণ করে প্রাথমিক যাচাই শেষে সেগুলো একত্র করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাবেন।

একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন অনলাইন ও ম্যানুয়াল, দুই পদ্ধতিতে অনুদানের জন্য সুপারিশ না পায়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আগে অনলাইনে পাওয়া আবেদনের সুপারিশকৃত তালিকার সঙ্গে নতুন ম্যানুয়াল আবেদনের তালিকা সমন্বয় করবে জেলা কমিটি। এরপর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠাতে হবে।

নির্ধারিত আবেদন ফরম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাওয়া আবেদন যাচাই করে জেলা কমিটির সুপারিশ করা তালিকা আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

এমএইচ/এএম