নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক মূলধারার শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন না রেখে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এই তাগিদ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষাকে যুগোপযোগী, আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে শিক্ষাবিদরা ইসলামি শিক্ষার মৌলিক আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও নৈতিক মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসানাত মোহা. শামীম।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার ফ্যাকাল্টি অব কুরআনিক অ্যান্ড সুন্নাহ স্টাডিজের সিনিয়র লেকচারার ড. তাজুল ইসলাম। প্রবন্ধে তিনি মালয়েশিয়ার ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ, আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ তৈরির বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও রূপান্তরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ড. আবুল হাসানাত মোহা. শামীম বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারার আধুনিক শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার সুযোগ নেই। ইসলামি জ্ঞানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান, ভাষা দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, আলিয়া ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দেশের বৃহৎ শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সক্ষমতা তৈরিতে পরিকল্পিত শিক্ষা সংস্কার জরুরি। অন্য কোনো দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে বাংলাদেশের বাস্তবতা, সংস্কৃতি ও প্রয়োজনের আলোকে নিজস্ব শিক্ষা মডেল গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করতে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। ইসলামি শিক্ষার মৌলিক আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে এর সমন্বয় ঘটাতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষাকে আধুনিক বিশ্বের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করে টেকসই ও কার্যকর শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হতে পারে। তবে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে কৌশলগত সংস্কার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে ইসলামি শিক্ষাকে আরও কার্যকর, কর্মমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা সম্ভব।
কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. হুসাইন আহমাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম এবং কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী।
এ ছাড়া সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং অধিভুক্ত প্রায় ৫০টি মাদরাসার অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।
এম/এএম