নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ এএম
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিন হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। এতে ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। আর ৫৫ হাজার ২৫৯টি স্ক্রিপ্টে নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৪ জন। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন। মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড এবং ২১ হাজার ৬৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছেন ৩৩৭ জন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯০৬ জন।
রাজশাহী বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৯৮ হাজার ৭১০টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৬৩১ জনের গ্রেড ও ১ হাজার ৪০০ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফল পরিবর্তনের পর ১১১ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭ জন।
কুমিল্লা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯২৯ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৯১ হাজার ৪৯৪টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ২ হাজার ১৫৫ জনের গ্রেড এবং ৪ হাজার ৭০ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এ বোর্ডে ৩৩৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০৭ জন।
যশোর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬২ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় ৭৪ হাজার ৭১৭টি স্ক্রিপ্ট। এতে ১ হাজার ৬৮৪ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ৭৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৩৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮২ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৯৭৫ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ১৯০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৩ জন।
বরিশাল বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮০ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ২৮৩ জন আবেদন করেন। পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় ৫০ হাজার ২৯৩টি স্ক্রিপ্ট। এতে ১ হাজার ৫ জনের গ্রেড এবং ৩ হাজার ১১৮ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এ বোর্ডে ৭৯ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১২ জন।
সিলেট বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮৯ হাজার ৭৯ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৭৮৩ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৫০ হাজার ৭১৩টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ২৮৬ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৫৮৭ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ১৮৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১২১ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯৬ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় ৮৯ হাজার ২৮৬টি খাতা। এতে ৩ হাজার ৩৫৪ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৬৩৬ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন করে ৮৬৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৭৫ জন।
ময়মনসিংহ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৭১ হাজার ৬৬টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৫ হাজার ৩২১ জনের গ্রেড এবং ৬ হাজার ৫০৮ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭৭ জন।
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ১২০ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ৫৪৯ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৯৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন করে ২৫৫ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯৩ জন।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩০৭ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৩৪ হাজার ৩০৫টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৬৬৭ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ১৭২ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৬৬৪ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন।
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। এত দিন শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। এবার সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার নেমে আসে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যায় প্রায় ১৯ হাজার।
ফল প্রকাশের পর গত ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। ফল প্রকাশের পর এবার নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় পুনর্নিরীক্ষণের ফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহও ছিল বেশি।
জেবি