বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২৩ জন শিক্ষক এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। শিক্ষা ছুটিকালীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেওয়া বেতন-ভাতার অর্থও ফেরত দেননি তারা। এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে প্রায় তিন কোটি পাঁচ লাখ টাকা।
তথ্য অধিকার আইনে যবিপ্রবির শিক্ষকদের শিক্ষা ছুটি সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪ জন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের অধিকাংশই মাস্টার্স, পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।
এর মধ্যে ২৩ জন শিক্ষকের শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তারা এখনও যোগদান করেননি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের মধ্যে সিএসই ও এমবি বিভাগের চারজন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তিনজন, ফার্মেসি ও ইএসটি বিভাগের দুজন করে এবং আইপিই, সিএইচই, পিএমই, ইইই, বিএমই, জিইবিটি, এআইএস ও এনএফটি বিভাগের একজন করে শিক্ষক রয়েছেন।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেননি, তাদের কয়েক দফায় চিঠি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এসব নোটিশের জবাবে উপযুক্ত সাড়া না পেলে বা সন্তোষজনক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান বলেন, শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অর্থ পাওনা রয়েছে, তা ফেরত পাওয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারণ, যেসব শিক্ষক নিজেদের সুবিধার জন্য বিদেশে গিয়ে আর ফেরত আসছেন না, তারা রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় উভয়েরই ক্ষতি করছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিজ নিজ বিভাগে শিক্ষক সংকট তৈরি হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত সংকট নিরসনে যারা দীর্ঘদিন ধরে যোগদান করছেন না, তাদের ব্যাপারে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থ ফেরত আনতে সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফএ