Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিস গড়বে ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এসব অফিসের মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ বা দ্বৈত ডিগ্রি, আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান এবং একাডেমিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইউজিসিতে আয়োজিত ইরাসমাস প্লাস ইনফো সেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ তথ্য জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষার মান, গবেষণার সক্ষমতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান অনেকাংশেই বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। তাই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে ইউজিসি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার হবে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, যৌথ ল্যাবরেটরি ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর মধ্যেই আন্তর্জাতিকীকরণ সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না ইউজিসি। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের বাস্তব ও স্থানীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, এসব অফিস আন্তর্জাতিক বৃত্তি, গবেষণা অনুদান, ফেলোশিপ, একাডেমিক বিনিময় ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তা কাজে লাগাতে সহযোগিতা করবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, দক্ষ জনবল তৈরি, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্থায়নের বিষয়েও ইউজিসি সহযোগিতা করবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের সক্ষমতা ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য নিজস্ব কৌশল তৈরি করতে হবে। এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যক্তি-নির্ভর না হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশি মেধাবীদের শুধু ব্রেন ড্রেন হিসেবে না দেখে ব্রেন সার্কুলেশনের মাধ্যমে দেশের সঙ্গে তাঁদের কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে চায় ইউজিসি।

এ লক্ষ্যে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের নিয়ে একটি একাডেমিক ডায়াসপোরা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, পাঠদান, যৌথ প্রকল্প, গবেষণা তত্ত্বাবধান ও সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে যৌথ গবেষণা, যৌথ ডিগ্রি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস থাকলে আন্তর্জাতিক বৃত্তি, গবেষণা অনুদান ও অংশীদারত্বের সুযোগগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যক্তি-নির্ভর না হয়ে টেকসই ও ধারাবাহিক রূপ পাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরাসমাস প্লাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ কর্মসূচির সুযোগ সম্পর্কে আরও সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভীন এবং ইরাসমাস প্লাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস নেটওয়ার্কের এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অংশীজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এমএইচ/এআর