মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

উচ্চশিক্ষায় বৈষম্য কমাতে গবেষণা ও মানোন্নয়নে জোর দিচ্ছে ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

উচ্চশিক্ষায় বৈষম্য কমাতে গবেষণা ও মানোন্নয়নে জোর দিচ্ছে ইউজিসি
তিস্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বক্তব্য দেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন

দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিদ্যমান মানগত ও সক্ষমতার ব্যবধান কমিয়ে সমমানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে গবেষণা, শিক্ষক উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও মানোন্নয়ন কার্যক্রমে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা খাতে বিভিন্ন সংস্কার ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে তিস্তা ইউনিভার্সিটির ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এসব কথা বলেন।

ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণা সক্ষমতা, শিক্ষক উন্নয়ন, ল্যাব ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থানমুখী পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দৃশ্যমান পার্থক্য রয়েছে। এই ব্যবধান কমিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন প্রতিষ্ঠানভেদে নয়, বরং সমমানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সেই লক্ষ্যেই ইউজিসি কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ইউজিসি প্রণীত উচ্চশিক্ষা রূপান্তরের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার খসড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়েই জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় এই সময়েই। তাই শুরু থেকেই সময়ের যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং আত্মউন্নয়নের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

TU

তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তা, নৈতিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করা জরুরি।

ইউজিসির এই সদস্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দক্ষ, মানবিক, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির কেন্দ্র। তাই শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি গবেষণা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, উত্তরাঞ্চলে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিস্তা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের মান রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এটিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী। সভাপতিত্ব করেন তিস্তা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবুল কাশেম। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল আলম আল-আমিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর