Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

শিক্ষা ক্যাডারে ২ বছরের আগে বদলি নয়, স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে ছাড়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও কর্মস্থল বিবেচনায় তিন স্তরের কমিটির মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। একইসঙ্গে বদলি হতে আগ্রহীদের এক স্থানে ২ বছর চাকরি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে চাকরিরত স্বামী-স্ত্রীদের বদলির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পাওয়া যাবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলি ও পদায়নের আবেদন সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অঞ্চলভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পরিচালকের সভাপতিত্বে গঠিত এ কমিটিতে থাকবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ)।

এই কমিটি দফতর ও সংস্থার পদ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলি ও পদায়নের আবেদন যাচাই-বাছাই করে আদেশ জারি করবে।

এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি ঢাকা মহানগর এবং অন্যান্য দফতর ও সংস্থার পদ ছাড়া সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের আবেদন নিষ্পত্তি করবে।

অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিবের সভাপতিত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন অধিদফতর ও সংস্থার সব পদে বদলি ও পদায়নের আবেদন যাচাই-বাছাই করে আদেশ জারি করবে।

নতুন নীতিমালায় বদলির ক্ষেত্রে ন্যূনতম চাকরির মেয়াদও নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকসহ কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে অন্তত দুই বছর চাকরি পূর্ণ না করা পর্যন্ত বদলির আবেদন করতে পারবেন না।

তবে গুরুতর শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রে যৌক্তিকতা বিবেচনায় দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও বদলির আবেদন করা যাবে। এ ধরনের আবেদন বিবেচনার ক্ষমতা সরকার সংরক্ষণ করবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরিজীবী হলে তাদের একজনের কর্মস্থল বা নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করা যাবে। অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে পছন্দের সুবিধাজনক স্থানে পদ খালি থাকা সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়নের সুযোগ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি, পারিবারিক সমস্যা এবং নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের দূরত্বের বিষয়গুলোও বদলির আবেদন বিবেচনার সময় গুরুত্ব পাবে।

তবে পিডিএস হালনাগাদ না থাকলে, আবেদন অসম্পূর্ণ হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বা তদন্তাধীন অভিযোগ থাকলে সেই আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। পাশাপাশি গত তিন বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক হওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা জারির তারিখ থেকে এ বিষয়ে আগে জারি করা সব নীতিমালা বাতিল বলে গণ্য হবে।

বিইউ/এমআই