নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
কওমি মহিলা মাদরাসাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম, অবদান ও সুনাম রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আলেম ও শিক্ষাবিদরা। তারা বলেছেন, নারী শিক্ষার বিকাশে কওমি মহিলা মাদরাসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে সম্প্রতি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া লিলবানাত বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশ কওমি মহিলা মাদরাসা ঐক্য পরিষদ) আয়োজিত ‘নারী শিক্ষার উন্নয়নে মহিলা মাদরাসার অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা, বৃত্তি প্রদান ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব বলেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক ও গোলাপবাগ মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি ফয়জুল্লাহ ইব্রাহিমীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা মাহফুজুল হক।
মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, কওমি মহিলা মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনের পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করছেন। তাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এ শিক্ষা ব্যবস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন করার কোনো অপচেষ্টাই গ্রহণযোগ্য নয়।
মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, কওমি মহিলা মাদরাসা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে আলেম-উলামা, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা ড. ওলীউর রহমান, মাওলানা আহমদ মায়মুন, মাওলানা আনওয়ারুল হক, মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী, মুফতি উবায়দুল কাদির নদভী, মুফতি সাইফুল ইসলাম, মুফতি আজিজুল হক, মুফতি শাহাদাত হোসাইন, মুফতি আব্দুস সাত্তার, মুফতি উসমান আশরাফী, মুফতি জোবায়ের আহমদ, মুফতি বেলায়েত হোসাইন ফিরোজী, মাওলানা নূরুল হক ও মাওলানা হোসাইন আহমদসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, ধৈর্য এবং আইনসম্মত ও যুক্তিনির্ভর অবস্থানের মাধ্যমে সব ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সম্ভব। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নারী শিক্ষার এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ব্যর্থ করা যাবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমআর/ক.ম