নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ মে ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে মীরপুরের শাহ আলী মাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার, খানকাহ ও পীরদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মৌন মানববন্ধন করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৭টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব অবস্থানের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও রাজনৈতিক ভাগবাটোয়ারার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ বলেন, হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতোমধ্যে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া এনসিপির এক শীর্ষ নেতা মাজার পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় মাজারপ্রেমীরা তার সামনেই অভিযোগ করেন, এ হামলায় এনসিপির নেতাকর্মীরা জড়িত ছিল এবং তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর ফকির-সন্ন্যাসী ও মাজারপ্রেমীদের জন্য দেওয়া অনুদানের টাকায় ভাগ বসাতে সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির ভাগবাটোয়ারার রাজনীতির ভিকটিম হচ্ছেন মাজারপ্রেমীরা। অবিলম্বে এসব বন্ধ করতে হবে। মাজারের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
জেডিপির সদস্যসচিব এডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, ফকির-সন্ন্যাসীসহ দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সংবিধান শেখানো আপনার কাজ নয়, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া আপনার কাজ। আপনি আপনার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করুন।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূইয়া বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মবতন্ত্রকে বৈধতা দিয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আজ শাহ আলীর মাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে এসব মবতন্ত্র বন্ধ করতে হবে।
জেডিপির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ বলেন, মাজার ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির ওপর হামলা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেডিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মো. মুহিব্বুল্লাহ, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের সদস্য সচিব আহনাফ আতিফ, প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মানিক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এমআর/এআরএম