images

শিক্ষা / সারাদেশ

শিক্ষকদের শাটডাউনে পুরোপুরি অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

জেলা প্রতিনিধি

১২ মে ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের পর শাটডাউন ঘোষণার তৃতীয় দিন মঙ্গলবারও পুরোপুরি অচল হয়ে আছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। শিক্ষকদের এ দাবি আদায়ে উপাচার্য আন্তরিক নয়- এমন অভিযোগ তুলে তাকে অবাঞ্চিতও ঘোষণা করেছে আন্দোলনরতরা। আগে থেকেই ববির ২৫ বিভাগের মধ্যে ২৪ বিভাগেই সেশনজট তীব্র। এরই মধ্যে গত ২২ দিন ধরে চলমান অসহযোগ আন্দোলনসহ কর্মবিরতির প্রভাবে শিক্ষার্থীরা আরও তীব্র সেশনজটের আতঙ্কে আছেন।

সব যোগ্যতা অর্জনের পরও ববির ২১০ শিক্ষকের মধ্যে ৬০ জনের পদোন্নতি দীর্ঘদিন আটকে রেখেছে ববি- এমন অভিযোগ তুলে গত ২০ এপ্রিল থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা। এরপর কর্মবিরতি ঘোষণা করে ক্লাস ও ফাইনাল পরীক্ষাসহ শিক্ষক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন শিক্ষকরা। এরপর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের দাবি আদায়ের বিষয়টি উপাচার্য অগ্রাহ্য করেছেন বলে অভিযোগ তুলে শাটডাউন ঘোষণা করে শিক্ষকরা। এতে করে এখানকার ২৫ বিভাগের প্রায় সব কটিতেই চলমান ফাইনাল পরীক্ষা-পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়।

ইতোমধ্যে ববির ২৫ বিভাগের মধ্যে শুধুমাত্র আইন বিভাগ ছাড়া বাকিগুলোতে সেশনজট চলছে। এরই মধ্যে আন্দোলনের প্রভাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও পিছিয়ে যাচ্ছে, ফলে আরও তীব্র সেশনজটে জড়িয়ে যাওয়ার চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এখানকার শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ শিক্ষকদের আন্দোলনে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আন্দোলনে অংশ হিসাবে ববির প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনজন সহযোগী অধ্যাপক। আন্দোলনের অংশ হিসাবে তারা প্রতিদিন জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।

b52cf322-e39b-4d20-bfd1-2d78e5b4c538

ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ধীমান কুমার রায় বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবি এখনও মেনে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে আমরা বাধ্য আন্দোলনে নেমেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে আমরা ক্লাসে ফিরব না। এ আন্দোলনের প্রভাবে শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়- এ বিষয়ে শিক্ষকরা আন্তরিক বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

শিক্ষকদের ‘শাটডাউন’, অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ববি উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে খুবই আন্তরিক। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

b4e9febf-554d-4443-83af-8d663ea74c68

প্রসঙ্গত, টানা আন্দোলনের আগে থেকেই পদোন্নতি চাওয়া শিক্ষকরা তাদের প্রচলিত নিয়ম বা বিধি মেনে পদোন্নতি চাইছে। ববি প্রশাসন ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ইউজিসি সেই নিয়োগ কার্যক্রম আটকে দিয়ে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে বলে। কিন্তু দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ অভিন্ন নীতিমালায় যুক্ত হলেও ববিসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি। তাই এখন বিধিমালা তৈরি করে ববির সিন্ডিকেট সভায় পাস করে ইউজিসির অনুমোদন শেষে আগামী দুই মাসের মধ্যে পদোন্নতি দেওয়া হবে বলে বলছে ববি প্রশাসন।

প্রতিনিধি/এসএস