বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে থাপ্পড় মেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলির বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অষ্টম ইনডোর গেমস বাছাই পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ পাওয়ার পর থাপ্পড় মারার ঘটনা স্বীকার করে নিজেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাদিয়া সুলতানা নেলি। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্রীড়া সম্পাদক স্বজনপ্রীতি করছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ক্যারামবোর্ড খেলা নিয়ে। ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম জানান, ক্যারাম খেলায় দুটি দল ফাইনালে উঠেছিল। নিয়ম অনুযায়ী ফাইনালে দুটি দল একই বিভাগের হতে হয়।
তিনি বলেন, ‘দুটি দল ফাইনালে ওঠার পর ক্রীড়া কমিটির সদস্যদের বলেছি, দুজনকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা যায় কি না। কিন্তু নেলি আপু খেলা ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার দাবি করতে থাকেন। না হলে ভিসি স্যারকে ফোন দেওয়ার হুমকি দেন।’

অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নেলি তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে থাপ্পড় মারার ঘটনা স্বীকার করে লিখেছেন, ‘মিস্টার জর্জিস আনোয়ার নাঈম (ক্রীড়া সম্পাদক জকসু) এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পড় খাবেন না। এখন তো শুধু একটা দিছি।’
পোস্টে তিনি দাবি করেন, স্বজনপ্রীতির প্রমাণ তার কাছে আছে এবং সম্প্রতি ছাত্রীরাও অভিযোগ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দুটি দলকে একসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টা হচ্ছিল, যা অনিয়ম।
জকসু ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদককে শিক্ষকদের সামনেই আঘাত করেছেন ছাত্রলীগ থেকে পুনর্বাসিত ছাত্রদল নেত্রী লেনি। এর আগেও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত এভাবেই একের পর এক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করা হচ্ছে সারা দেশে। আমরা ইতোমধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। অতি দ্রুত এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শক্তির সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেছেন, ‘জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে শারীরিক আঘাত ও লাঞ্ছনার তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি জানাচ্ছি।’
ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে বলেও জানা গেছে।
প্রতিবেদক/এমআই