বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘অথেনটিক ন্যারেটিভ অফ হিস্ট্রি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর সলিমুল্লাহ খান।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী রিতু রায় বলেন, আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে আমরা অনেক কিছু জানিনা, আজকে বুঝলাম। আমাদের অথেনটিক কোনো ন্যারেটিভ নেই যেই ন্যারেটিভে সবাই একমত। এটা দুঃখজনক আমাদের দেশের ইতিহাসবিদরাই ইতিহাস বিকৃত করেছেন।
প্রধান বক্তা প্রফেসর সলিমুল্লাহ খান বলেন, শেখ সাহেবর অবদান আমাদের স্বীকার করতে হবে এতে আপনারা আমাকে মুজিববাদী বলতে পারেন, আমার কোনো আপত্তি নেই। আবার জিয়াউর রহমানের অবদানকেও স্বীকার করতে হবে। তিনি এক বইয়ের রেফারেন্স নিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমানের সামনে আসা ‘জাস্ট ফর লাক’। তখন তিনি রেডিও স্টেশনে ছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া বলেন, আমরা এখনো একটা ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারিনি। পাকিস্তান তাদের মতো করে ন্যারেটিভ তৈরি করেছে আবার ভারতও তাদের মতো করে ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। কেউ যখন আপনার ন্যারেটিভ দখল করতে পারে সে আপনাকে দখল করতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ছাপ্পান্ন বছরের ইতিহাসে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস রচনা করতে পারিনি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখানে আমাদেরও দায় আছে কারণ আমরা আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভের খুব ভালো শ্রোতা ছিল। ইতিহাসের নির্মোহ অবস্থান বা বাস্তবিক ইতিহাস কারা তুলে আনবে। আমরা এখনো ৩০ লক্ষ শহিদের তালিকা ও শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রকাশ করতে পারিনি। তিনি ইতিহাসবিদদের ঐকমত্য হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে নিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সেমিনারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. শাবীনা শারমিন, প্রক্টরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এআরএম