সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অজুহাতে জবির কেন্দ্রীয় মসজিদে তালা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জবি
প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

JU dhakamail
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। -ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় মসজিদের গেট তালাবদ্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলে শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দুপুর সাড়ে বারোটায় মসজিদ খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত মসজিদ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) জবি কেন্দ্রীয় মসজিদ ঘুরে তালাবদ্ধ অবস্থায় বন্ধের নির্দেশনাসংবলিত লিফলেট দেখা গেছে।


বিজ্ঞাপন


ইতিহাস বিভাগের ২০২২-২০২৩ সেশনের শিক্ষার্থী এ এস নাদিম বলেন, ‘আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আসা-যাওয়া করি, তাদের ক্লাস শেষে বাস ছাড়ার আগের সময়গুলো কেন্দ্রীয় মসজিদেই কাটে। সকাল সাড়ে সাতটায় বাস এসে ক্লাসের পর দুপুরে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। দুপুর একটায় ও সাড়ে তিনটায় বাস ছাড়ার আগে এখানেই শুয়ে-বসে-পড়ে সময় কাটাই। সংকট কেন শুধু শিক্ষার্থীদের দিকে দেখানো হয়?’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফে, যানবাহন- একেকটা বিলাসবহুল। সংকট থাকলে প্রশাসনিক ভবনে এসি বন্ধ রাখা হচ্ছে না কেন? দ্বিতীয় তলার লিফট বন্ধ রাখা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসি বাসগুলোতে এসি বন্ধ রাখা হচ্ছে না কেন?’

আরেক শিক্ষার্থী হাফিজ আশিকুর রহমান আকাশ বলেন, ‘মসজিদ ফাঁকা পড়ে আছে, অথচ সেখানে শিক্ষার্থীদের ঢুকতে না দিয়ে তালা মেরে রাখা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হল নেই, গেস্টরুম নেই, বিশ্রামের জায়গা নেই। হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন ভোরের আঁধার ভেঙে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পাড়ি দিয়ে আসে শুধু পড়াশোনার জন্য। পরীক্ষা ১১টায়, কিন্তু আসতে হয় ভোর ছয়টায়। ক্লান্ত শরীর, খালি পেট, ঘুমহীন চোখ নিয়ে তারা একটু মাথা রাখার জায়গা খোঁজে।’


বিজ্ঞাপন


এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সকালে মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মোটেই যৌক্তিক নয়। ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আরও অনেক কার্যকর উপায় রয়েছে, সেগুলোর দিকেই প্রশাসনের আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিবির শাখার সভাপতি ও জকসুর জিএস আবদুল আলিম আরিফ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই দৃশ্যটি কেবল একটি তালাবদ্ধ দরজা নয়, বরং আমাদের বিবেকের ওপর চাপা এক প্রশ্ন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো ক্লান্ত শিক্ষার্থীর জন্য যেখানে মসজিদই একমাত্র আশ্রয়, সেখানে তালা ঝুলে থাকা সত্যিই বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। আল্লাহর ঘর কখনো সীমাবদ্ধ সময়ের মধ্যে বন্দি থাকার কথা নয়। এটি ইবাদত, জ্ঞানচর্চা ও মানবিক আশ্রয়ের স্থান। তাই দাবি স্পষ্ট-বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে মসজিদও খোলা থাকতে হবে।’

জকসুর ভিপি রিয়াজুল বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মসজিদটি যদি সার্বক্ষণিক বন্ধ রাখা হয়, তবে তা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। আমরা ইতোমধ্যে উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি জোহর নামাজের পর মসজিদের ইমাম সাহেবসহ আমাদের তার দফতরে ডেকেছেন।’

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় ও মসজিদ কমিটির কারও বক্তব্য অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

প্রতিনিধি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর