সাখাওয়াত হোসাইন
১৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৫৫টি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের (এসএইচএসএমসি) শিক্ষার্থী রোমানা রহিম মুনা। তিনটি সাবজেক্টেই তিনি অনার্স (৮৫ শতাংশের ওপর) নম্বর পেয়েছেন।
এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের সবার শীর্ষে উঠে এসেছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রোমানা রহিম মুনা। তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার সিলেবাসে থাকা কমিউনিটি মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি ও প্যাথলজি-এই তিনটি বিষয়েই অনার্স মার্ক পেয়েছেন তিনি।
রোমানা রহিম মুনার এই সাফল্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের জন্যও গৌরবের। এই মেডিকেল কলেজ থেকে তিনিই প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৫৫টি মেডিকেল কলেজের তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করলেন। কলেজটিতে প্রচলিত ধারণা ছিল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা সাধারণত অনার্স কিংবা শীর্ষ স্থান অধিকার করতে পারে না। রোমানার মেধা সে ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। শুধু তিনি নন, তার ব্যাচ থেকে ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অনার্স মার্ক পেয়েছে।
প্রথম হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে রোমানা রহিম মুনা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘সর্বপ্রথম আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি সুন্দর ফলাফল অর্জন করতে পারার জন্য। আল্লাহর রহমত ছাড়া এমন ফলাফল আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব ছিল না। আম্মু-আব্বু এবং আমার ম্যামদের (শিক্ষক) ফলাফল জানাতে গিয়ে চোখে পানি চলে এসেছিল। সব মিলিয়ে তখন আমি শুধু আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছিলাম।’
অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেডিকেলের পড়াশোনা একটা ম্যারাথনের মতো। আমার অনুপ্রেরণা আমার মা। এ ছাড়া আমার আব্বু এবং এই ফেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও আমার প্রতি একটা প্রত্যাশা ছিল। তারা সব সময় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।’
পড়াশোনার কৌশল সম্পর্কে রোমানা জানান, তিনি বিষয়ভিত্তিক গভীর অনুধাবনের চেষ্টা করতেন, যাতে মনে রাখা সহজ হয়। আগের বছরের প্রশ্নব্যাংক বারবার সমাধান করতেন, এতে আত্মবিশ্বাস তৈরি হতো। টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্যও আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখতেন।
পড়াশোনার চাপ সামলানোর কৌশল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেডিকেলে পড়াশোনার চাপ একটু বেশি, কিন্তু আমি মনে করি আমরা যদি পড়া জমিয়ে না রাখি এবং প্রতিদিন নিয়মিত নতুন কিছু শিখি, তাহলে পড়াটা বোঝা না হয়ে বরং ইন্টারেস্টিং হয়ে যায়। আমি যখন পড়তাম, তখন আমার মূল ফোকাস কখনোই শুধু পরীক্ষা ছিল না; আমি জানার জন্য পড়তাম।’
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-সহপাঠীদের প্রসঙ্গে রোমানা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি অনেক বেশি সৌভাগ্যবান যে এত ভালো একটি মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আমার কলেজের শিক্ষকেরা আমাদের নিজের সন্তানের মতো করে আগলে রাখেন। আমার কিছু অসাধারণ বন্ধু, ব্যাচমেট, সিনিয়র ও জুনিয়র আছে, যারা এই মেডিকেল লাইফটা আমার জন্য অনেক সহজ করে দিয়েছে।’
এখন তিনি পঞ্চম বর্ষে উঠেছেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে রোমানা বলেন, ‘এই সময়টুকু উপভোগ করতে চাই। এরপর হয়তো ঠিক করতে পারব আমার আগ্রহটা কোন দিকে। তবে এই মুহূর্তে গাইনি ও অবস–এ যাওয়ার একটা ইচ্ছা আছে। বাকিটা আল্লাহর ওপর ভরসা।’
যারা ভালো ফলাফল করতে চান, তাদের উদ্দেশে রোমানা বলেন, ‘মেডিকেলে মোটিভেশনের পেছনে না ছুটে ডিসিপ্লিনড হওয়া বেশি কার্যকর। কারণ মোটিভেশন সাময়িক, কিন্তু ডিসিপ্লিন স্থায়ী।’
রোমানা রহিম মুনার বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি ময়মনসিংহের প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাই-স্কুল থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি এবং মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ২০২২ সালের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় ৬২৪তম এবং ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় ৪৪তম স্থান অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া এমবিবিএস প্রথম ও দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তম স্থান অর্জন করেন রোমানা।
এসএইচ/এমআই