images

শিক্ষা

শিক্ষকদের কর্মবিরতি স্থগিত, পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৫ এএম

চার দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তারা। 

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাসমাশিস ঘোষিত কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বার্ষিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যে মানসিক চাপের মধ্যে ছিল, তা অনুধাবন করে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও তাদের শিক্ষাজীবনকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। তাই আগামীকাল ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

‘একইসঙ্গে আমাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া সমাধানের পথে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি, ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে আর বাধাগ্রস্ত না হয়। যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

n
সোম ও মঙ্গলবার পরীক্ষা দিতে গিয়ে এভাবেই বিভিন্ন স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

চার দাবিতে সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা। এর ফলে সোমবার এবং মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। 

যে চার দাবি সরকারি মাধ্যমের শিক্ষকদের

১. সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক‍্যাডারভুক্ত করে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের’ গেজেট প্রকাশ। 

২. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা।

৩. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ দেওয়া। 

৪. ২০১৫ সালের আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের দুই থেকে তিনটি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন-সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ করা।

এদিকে সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার হুঁশিয়ারি দেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ রেখে যে শিক্ষকরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে পরীক্ষা স্থগিত রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ নানা মহল থেকে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। অবশেষে বিবেক জাগল শিক্ষকদের। 

এএইচ