images

অর্থনীতি

‘তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপের এখনই আদর্শ সময়’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ মে ২০২৩, ০৭:৩৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকশূন্য করতে এসব পণ্যের ওপর কার্যকর করারোপের এখনই আদর্শ সময় বলে জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

জাতীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন নেতৃবৃন্দ ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিগারেটসহ সকল তামাক পণ্যের খুচরা মূল্য উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে সেগুলোর ওপর বেশি হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করলে তামাক ব্যবহার কমবে। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। তাই বিদ্যমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপের জন্য এখনই আদর্শ সময়।

বুধবার (২৪ মে) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয়ের ‘তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপ বিষয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন।

বৈঠকে আলোচকরা বলেন, তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যেমন দরকারি, তেমনি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্যও তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনা দরকার। এ লক্ষ্যে খুচরা মূল্য উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে সেগুলোর ওপর বেশি হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করলে তামাক ব্যবহার কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। তাই বিদ্যমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপের জন্য এখনই আদর্শ সময়।

Tobaccoএ দিন গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই তামাক পণ্যের দাম অল্প অল্প করে বাড়ানো হয় এবং এগুলোর ওপর শুল্ক অপরিবর্তিত থাকে। কিন্তু মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় এক ধাক্কায় অনেকখানি দাম বাড়ানো এবং সেই বর্ধিত দামের ওপর সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের মাধ্যমেই তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপ সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃনাল কান্তি দাস, গাইবান্ধা ৪ আসনের  মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৮ এর সংসদ সদস্য লুৎফুন নেসা খান। বৈঠকে তারা ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপের আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।

>> আরও পড়ুন: 'তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু কমাতে শক্তিশালী আইন জরুরি'

এছাড়াও বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, সিগারেট ও তামাক পণ্যের উপর কার্যকর করারোপের বিষয়ে পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সিগারেটের খুচরা মূল্য অধিক হারে বাড়ালে ব্যবহার কমে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। কারণ, এটি অভ্যাসজাতীয় পণ্য। তবে এতে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। এই বাড়তি কর স্বাস্থ্যখাতে ব্যবহার করা যায়। কারণ, তামাক পণ্যের ক্ষতির বিষয়টি স্বাস্থ্য খাতের ওপর দিয়ে যায়। এ সময় বাড়তি কর দিয়ে তামাক সংক্রান্ত অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্তদের জন্য ফান্ড গঠন করা যায় বলেও মত দেন তিনি।

একই সময় তামাকের ব্যবহার বন্ধ করতে চাইলে এসব পণ্যের নতুন গ্রাহক তৈরি বন্ধ করতে হবে জানিয়ে এ লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান এই স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ।

এ দিন বৈঠকে সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দও এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। ঢাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপ বিষয়ে ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা’ শিরোনামে এই গোলটেবিল বৈঠকে তামাকবিরোধী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষক এবং সামাজিক সংগঠন আসছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপের যে প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআর-সহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উত্থাপন করেছে, তা একটি ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

>> আরও পড়ুন: ধোঁয়াহীন তামাক পণ্যে আক্রান্তঝুঁকি বাড়ছে

এ সময় উন্নয়ন সমন্বয়ের লিড অর্থনীতিবিদ রবার্ট শুভ্র গুদা বলেন, নিম্নস্তরের সিগারেটে অন্যান্য স্তরের সিগারেটের তুলনায় কম সম্পূরক শুল্ক থাকার কারণে সিগারেট কোম্পানিগুলো বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। এ অবস্থায় সকল স্তরের সিগারেটে সমান করভার আরোপের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া সভাপতির বক্তব্যে বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এস এম জুলফিকার আলী বলেন, তামাক পণ্যেরে দাম বাড়ালেই কর হারানোর যে আশঙ্কা করা হয় তার ভিত্তি নেই; বরং মধ্যমেয়াদে অর্থাৎ আগামী ২-৩ বছর তামাক পণ্যের দাম বাড়িয়ে সেখান থেকে সরকারের পক্ষে বাড়তি কর আয় সম্ভব।

প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হেলাল আহম্মেদ, সিপিডি-এর রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার আবদুল গাফফার, স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/আইএইচ