নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
বাংলাদেশে ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। এ লক্ষ্যে ইলেকট্রনিকস উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল সংযোগ এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের প্রেসিডেন্ট কিম উ-জুন ও প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান চালুর সম্ভাবনা অনুসন্ধানের আহ্বান জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের ইলেকট্রনিকস উৎপাদন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল সংযোগ খাতে দুই পক্ষের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের বিকাশে স্যামসাংয়ের অভিজ্ঞতা ও উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে স্যামসাংয়ের প্রেসিডেন্ট কিম উ-জুন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহের কথা জানান।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসা সহজীকরণ এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিকস শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক ২৬ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়টিও রয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত। সিইপিএ-পরবর্তী সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্যামসাংয়ের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে প্রচলিত তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের বাইরে ইলেকট্রনিকস, প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদনশিল্পকে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এএইচ/এসআই