জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম
অবলুপ্তির প্রায় পাঁচ দশক পর অবশেষে পাইওনিয়ার ব্যাংকের নিলামে কেনা জমির মালিকানা বুঝে পেয়েছেন ১১ ক্রেতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় অবস্থিত ২৬৮ শতাংশ জমির দলিল গতকাল রোববার ক্রেতাদের হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় আরও ১০৫ শতাংশ জমি এখনো হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রেতাদের কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর-১ ড. মো. হাবিবুর রহমান ও ডেপুটি গভর্নর-২ ড. মো. কবির আহমেদ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় অবস্থিত জমিগুলো গত ৩১ জানুয়ারি উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতারা এসব জমি কেনেন। সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ করা একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের তত্ত্বাবধানে নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
নিলামের পর কয়েকজন ব্যক্তি বিক্রি করা জমির ১০৫ শতাংশের মালিকানা দাবি করে মামলা করেন। ফলে ওই অংশের দলিল হস্তান্তর আটকে যায়। অন্যদিকে, বাকি ২৬৮ শতাংশ জমি ক্রেতাদের নামে নিবন্ধনের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই জমি নিবন্ধনের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১১ ক্রেতার কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ১৯৭৭ সালের ২৬ জুলাই হাইকোর্টের আদেশে ১৭টি অবলুপ্ত ব্যাংকের অবসায়ক বা লিকুইডেটর হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট আদালতের নির্দেশে এসব ব্যাংকের জমি বিক্রি, তহবিল ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় অবসায়ককে।
সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই অবলুপ্ত পাইওনিয়ার ব্যাংকের জমিগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় ১০৫ শতাংশ জমি এখনো ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
ব্রিটিশ ভারত আমলে কুমিল্লায় প্রধান কার্যালয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল পাইওনিয়ার ব্যাংক। ১৯৪৬ সালে ব্যাংকটির ৩১টি শাখা ছিল। পরে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের আদেশে ১৯৪৯ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকটির অবসায়ন শুরু হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটির পাওনা আদায় ও সম্পদ নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলতে থাকে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যাংকটির কিছু সম্পদ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।
টিএই/এএস