Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

বিশৃঙ্খলা বন্ধ না হলে কারখানা চালাতে চান না মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

পোশাকশিল্পে চলমান শ্রম অসন্তোষ, বিশৃঙ্খলা ও কারখানা ভাঙচুর বন্ধ না হলে মালিকেরা আর কারখানা চালু রাখতে চান না বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি বলেছেন, কারখানা পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকলে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি সদস্য প্রতিদিন কারখানা পরিচালনা করতে চান। কারণ, উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কারখানা চালু রাখার জন্যই। কিন্তু কারখানা পরিচালনার মতো পরিবেশ না থাকলে তা চালানো সম্ভব নয়। ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে এবং এ বার্তা আগেই শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা ও কারখানা ভাঙচুর করা হয়েছে, কাজ করতে দেওয়া হয়নি।’

আরও পড়ুন

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে আ.লীগের ইন্ধন!

মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তারা এ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। অধিকাংশ শ্রমিক কাজ করতে চান এবং মালিকেরাও কারখানা চালু রাখতে চান। কিন্তু গুটিকয়েক শ্রমিক নামধারী ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এরই মধ্যে বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। আমরা আশা করব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ভূমিকা নেবে এবং যারা আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনবে।’

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, বিশৃঙ্খলা বন্ধ না হলে মালিকেরা আর কারখানা চালাতে চান না—এমন বার্তা তারা দিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই সরকারের সঙ্গে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

BGMEA1

এদিকে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকেরা। তাদের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধের কারণে শিল্পাঞ্চলগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন

শ্রমিক অসন্তোষ: ৩০০ পোশাক কারখানায় ছুটি

বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৩১৮টি বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা থেকে কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় ৩২০টি কারখানার মধ্যে মিরপুরে বন্ধ রয়েছে ৬৮টি। এসব কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক।

গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২২৫টি বন্ধ রয়েছে। এ দুই এলাকায় কর্মবিরতিতে অংশ নিয়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক। অন্যদিকে সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২৫টি বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চাকরির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের প্রাধান্য দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি তাদের। এসব সমস্যা সমাধানে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেবি