Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

এলডিসি উত্তরণে সামষ্টিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ।

তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। আগামী তিন বছরে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। তবে এ জন্য নতুন করে সবকিছু শুরু করার প্রয়োজন নেই। বর্তমান সরকার যেসব সংস্কারের কথা বলেছে, সেগুলো যথাযথভাবে ও সময়মতো বাস্তবায়ন করা গেলে উত্তরণের প্রস্তুতিতেও ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ: জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত ও আমাদের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড. নাজনীন আহমেদ।

তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি। সেই রোডম্যাপ কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রস্তুতি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, কোন কাজ কখন এবং কীভাবে করা হচ্ছে, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

এলডিসি উত্তরণ না হলে কী সমস্যা হতে পারে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন প্রশ্ন থাকতে পারে উল্লেখ করে ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকে ভালো করলেও উন্নয়নের সুফল সবাই সমানভাবে পাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ দেশের উচ্চমাত্রার বৈষম্য।

তাই এলডিসি উত্তরণের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সাধারণ মানুষও উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবে। প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বিভিন্ন খাতে শিল্পায়ন বাড়াতে হবে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাহলেই এলডিসি উত্তরণের পরও দেশের অর্থনীতি সক্ষমতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে।

ড. নাজনীন আহমেদ আরও বলেন, জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে প্রতিটি দেশকে একটি মসৃণ উত্তরণ কৌশল বা স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আগে কাজ হয়েছে। ২০২২ ও ২০২৪ সাল থেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ ও আলোচনা ছিল। ফলে এখন পর্যন্ত কিছু ভিত্তিমূলক কাজ হয়েছে।

জাতিসংঘের এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচিও রয়েছে। এর আওতায় মসৃণ উত্তরণ কৌশল এবং বাজারসুবিধা হারানোর পর করণীয় বিষয়ে সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারের সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির অনেক বিষয় মিলে যায়। তবে এসব কাজ যথাসময়ে ও সঠিক পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে রাখতে হবে। পাশাপাশি কোন ক্ষেত্রে কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সিপিডির উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, সিপিডি নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। এর মাধ্যমে কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং কীভাবে সেগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করা হবে।

এএইচ/এআরএম