Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

২০৩০ সাল পর্যন্ত শেয়ারবাজারের মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, লেনদেন ও তারল্য বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মূলধনি মুনাফায় পূর্ণ কর অব্যাহতি চেয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ডিবিএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি রয়েছে। এর বেশি মুনাফার ওপর সাধারণভাবে ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। ডিবিএ এই সীমা তুলে দিয়ে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ কর অব্যাহতি পুনর্বহালের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের করব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ডিবিএর মতে, মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি দেওয়া হলে পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা অর্জিত মুনাফা পুনরায় বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। এতে দেশীয় সঞ্চয়ের উৎপাদনশীল ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ইকুইটি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন এবং নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি হওয়া যোগ্য লেনদেন থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফা করমুক্ত করা যেতে পারে। তবে স্পনসর, পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান করব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে সংগঠনটি।

ডিবিএ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে মূলধনি মুনাফা নিরূপণ ও কর হিসাবের প্রক্রিয়া সহজ হবে। এ বিবেচনায় সিসিবিএলের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে।

ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়বে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ উদ্যোগ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।

প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এমআর/এসআই