Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

দোহায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে উপস্থাপনা ইনভেস্ট বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

কাতারের রাজধানী দোহায় ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এ বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত উপস্থাপন করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের মূল মঞ্চে ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ: দ্য বিলিয়ন ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক অধিবেশন দোহায় আয়োজন করা হয়। 

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ ফোরামে ইনভেস্ট বাংলাদেশের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল এই অধিবেশন। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী ও বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি উপস্থাপনা করেন। বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ বাজার কীভাবে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে, তা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সেবা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে চলমান কার্যক্রমের কথাও জানান তিনি।

Rochi

উপস্থাপনায় সরকারি জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের অবকাঠামো, প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, বন্দর স্থাপনা ও মাতারবাড়ি গ্রিন ডকইয়ার্ডে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর বস্ত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। এসব প্রকল্পে উন্নয়নকারী, পরিচালনাকারী, বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারীরা কীভাবে যুক্ত হতে পারেন, তা ব্যাখ্যা করা হয়।

Invest2

নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোতে কীভাবে অংশ নেওয়া যায়, তা জানতে চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও ড্রাই ডকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নিয়েও অংশীদাররা আগ্রহ দেখিয়েছেন। এসব বিনিয়োগ বাংলাদেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে। কোন প্রকল্পে কীভাবে যুক্ত হওয়া যায় এবং বিনিয়োগকারীদের কীভাবে সহায়তা করা সম্ভব, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে আলোচনা হবে।

ফোরাম চলাকালে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি গোলটেবিল আলোচনারও আয়োজন করা হয়েছে।

ফোরামের প্রথম দিনে জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রাধিকারকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এগিয়ে নিতে বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করা, জমি প্রস্তুত করা, নীতিগত সমন্বয় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রকল্পের কাঠামো তৈরির কাজ কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় সমন্বিত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।

এ সময় অব্যবহৃত সরকারি জমিতে সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় একই মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে বর্তমানে ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় এসব প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

Invest1

বিনিয়োগ বিষয়ক পৃথক এক মন্ত্রীপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের উন্নয়নমূলক প্রভাবকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বাংলাদেশের সফল বিনিয়োগের উদাহরণগুলো আরও বেশি তুলে ধরতে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিনিয়োগ গ্যারান্টি ও রফতানি ঋণের মডেল অনুসরণের বিষয়টিও বিবেচনা করার প্রস্তাব দেন তিনি।

এএইচ/এফএ