রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

স্পেনের টেক্সটাইল মেলায় ১৮ বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান, লক্ষ্য রফতানি বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

স্পেনের টেক্সটাইল মেলায় ১৮ বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান, লক্ষ্য রফতানি বৃদ্ধি
স্পেনে ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এ বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।

ইউরোপের বাজারে রফতানি বাড়ানো এবং নতুন ক্রেতা খুঁজতে স্পেনের আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল মেলা ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান।

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় তৈরি পোশাক, বস্ত্র, গৃহসজ্জার সামগ্রী ও ফ্যাশন পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে ইউরোপের ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বার্সেলোনার ফিরা দে বার্সেলোনা মোন্টজুইক প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত এ মেলায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশের ৩০০টির বেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ইপিবির আর্থিক সহযোগিতা ও মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় ইপিবির তত্ত্বাবধানে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের ১৪টি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া আরও চারটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি মেলায় অংশ নিয়েছে।

গত বুধবার সকালে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান। এ সময় ইপিবির পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন, স্পেনে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রুহুল কুদ্দুস, প্রথম সচিব (শ্রম) মাহিদ আল হাসান এবং বিকেএমইএর পরিচালক মো. আবদুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রফতানি আয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের পণ্যের বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য হিসেবে জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে স্পেন। এটি বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ স্পেনে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

মেলায় ওভেন ও নিট কাপড়, তৈরি পোশাক, গৃহসজ্জার বস্ত্র, সুতা এবং ফ্যাশনসামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পাইকারি বিক্রেতা, নকশাবিদ ও সরবরাহকারীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে এই আয়োজনে। এর মাধ্যমে ইউরোপের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ডে ফ্যাশন, এএমসি নিট কম্পোজিট, সারা ফ্যাশন, বেঙ্গল গ্লোরি, কনকর্ড গার্মেন্ট ওয়্যার, ইউনাইটেড ক্রিয়েশন, এএমসি অ্যাপারেল, গ্লিমার ফ্যাশনস ডিজাইন অ্যাপারেল, জিন্স অ্যান্ড জ্যাকেট, আহাভা কম্পোজিট, এন ডব্লিউ আর এম টি, মানহা অ্যাটায়ার কম্পোজিট ও গেট ওয়ার্ল্ড অ্যাটায়ার ট্রিমস।

মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে দেশীয় পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের পরিচিতি বাড়ানো, নতুন ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং রফতানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে ইপিবি।

এমআর/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর