নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
সপ্তাহের বাজার করতে গিয়ে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর খাবারের বাজারে ব্যয় করার মতো অর্থ সীমিত হয়ে আসছে।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের জন্য একাধিক পদের সবজি কেনাও অনেকের কাছে কঠিন হয়ে উঠেছে। কেউ প্রয়োজনের তুলনায় কম সবজি কিনছেন, কেউ আবার বেশি দামের পণ্য বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত সস্তা বিকল্প খুঁজছেন। এতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকা ঠিক রাখার পাশাপাশি সংসারের খরচ সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-৬, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও ও ৬০ ফিট এলাকার বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে।
ক্রেতারা বলছেন, তাদের জন্য চাপ শুধু সবজির দামেই সীমাবদ্ধ নয়। মাছ-মাংসের দামও তুলনামূলক বেশি থাকায় প্রতিদিনের খাবারে কোন পণ্য কতটা রাখা যাবে, তা নিয়ে হিসাব করতে হচ্ছে। মাছ-মাংসের বদলে সবজি দিয়ে খাবারের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করলেও সবজির দাম বেশি হওয়ায় স্বস্তি মিলছে না। ফলে পরিবারের সদস্যদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাজারে সবজির দামে মৌসুমের প্রভাবও রয়েছে। শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও কিছু পণ্যের সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম বেশি। ক্রেতাদের অভিযোগ, অল্প কয়েকটি সবজি কিনতেও উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হচ্ছে। ফলে আগে যে টাকায় কয়েক ধরনের সবজি কেনা যেত, এখন সেই টাকায় তুলনামূলক কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।
শুক্রবারের বাজারদর অনুযায়ী, ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম ছিল ১০০ টাকা কেজি। শীতের আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়স বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। আগাম শিমের কেজি ছিল ১৬০ টাকা। নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। এসব দামে অধিকাংশ সবজি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের দামও সংসারের বাজার খরচ বাড়াচ্ছে। তেলাপিয়া মাছের কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ।
বাজারের বিক্রেতা আমজাদ হোসেন জানান, ছুটির সময়ে কাঁচাবাজারে বেচাকেনা কিছুটা কমলেও সবজির দাম তেমন কমেনি। ক্রেতারা মাছ-মাংস না কিনলেও পরিবারের জন্য সবজি কেনেন। দাম কমলে বিক্রেতারাও কম দামে বিক্রি করতে পারবেন।

বাজারের বাড়তি খরচের প্রভাব পড়ছে পরিবারের খাবারের তালিকায়ও। একাধিক পদের সবজি কেনার বদলে অনেকে এক বা দুই ধরনের সবজি কিনছেন। আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে কম কিনে দিনের খরচ সামলানোর চেষ্টা করছেন। এতে খাবারের বৈচিত্র্য কমছে, পাশাপাশি পরিবারের সবার পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করাও কঠিন হচ্ছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী আলাউদ্দিন জানান, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ মেটানোর পর সংসারের অন্যান্য ব্যয় সামলাতে হয়। ফলে বাজারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তার ভাষ্য, সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে এখন একাধিক তরকারি কেনার সামর্থ্য কমে গেছে।
মিরপুর-৬ এলাকার সবজি বিক্রেতা কামাল হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতে কিছু সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি। বেশি দামের কারণে ক্রেতারা আগের মতো একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনছেন না। অনেকে দাম শুনে পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ দরদাম করে অল্প সবজি নিয়ে ফিরছেন। এতে বিক্রি হলেও ক্রেতাপ্রতি কেনাকাটার পরিমাণ কমেছে।
এএইচ/এআরএম