নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের পরিমাণ ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও দেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে কার্যক্রম শুরু এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরতে চীনের শীর্ষ ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোর সামনে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে নিজেদের সদর দপ্তরে এ আয়োজন করে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না।
অনুষ্ঠানে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়না। সম্পদের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম চারটি ব্যাংকের তিনটি এসব প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস, স্মার্ট ও শিল্পপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস এবং কৃষিপ্রযুক্তি খাতের ২৬টি চীনা কোম্পানি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং। চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলামও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার: বাংলাদেশ-চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেয়। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের আর্থিক খাতে চীনা ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।
বাংলাদেশের সঙ্গে কাছাকাছি বা কম বাণিজ্যের পরিমাণ থাকা কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারেও চীনা ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত, চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে চীনা কোম্পানি ও তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে যুক্ত হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার ভূমিকা নিয়েও একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। পরে নেটওয়ার্কিং পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চীনা ব্যাংক ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ, অর্থায়ন এবং সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর সহজ ও কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনার অর্থায়ন, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তা প্রয়োজন। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণও এই প্রয়োজনের বিষয়টি তুলে ধরে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি এবং ব্যবসা ও উৎপাদন বাড়ানোর উপযোগী অংশীদারত্ব প্রয়োজন। বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে দুই পক্ষই উপকৃত হতে পারে। এতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও সহজ হবে।
এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সহায়তাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাংকটি বিশেষায়িত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংকটির প্রায় ৪০টি প্রকল্প রয়েছে। বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে আরও বেশি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবামুখী অর্থনীতির বিকাশে অর্থায়ন ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এএইচ/এএম