Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

রফতানি বহুমুখীকরণে ঢাকায় বসছে ‘আন্তর্জাতিক সোর্সিং এক্সপো’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

তৈরি পোশাকের বাইরে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ঢাকায় আয়োজন করা হচ্ছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’। আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে ১২টি খাতের দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন ক্রেতা অনুসন্ধান, ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং রফতানি আদেশ বাড়ানোর পথ তৈরি হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) এক্সপোর প্রস্তুতি উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা, চেম্বার প্রতিনিধি এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, গত বছর এ এক্সপোর প্রথম সংস্করণ আয়োজন করা হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে দেশীয় পণ্য তুলে ধরতে এটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

তিনি জানান, এবারের আয়োজনে গত বছরের আটটি খাতের পরিবর্তে ১২টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। এবারের এক্সপোতে ২০০টির বেশি স্টলে অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এক্সপোকে গড়ে তুলতে সেমিনার, ব্যবসায়িক ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক (বিটুবি), অনলাইন ম্যাচমেকিং, নেটওয়ার্কিং এবং কারখানা পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। পাশাপাশি ফ্যাশন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস, ঢাকায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, আন্তর্জাতিক ক্রেতা সমিতি এবং যৌথ বাণিজ্য চেম্বারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধানেও সুবিধা হবে।

এক্সপোতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ সহজ করতে নিবন্ধিত ক্রেতাদের জন্য হোটেলে বিশেষ মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যাতায়াতকারী অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের সুযোগের বিষয়টিও সভায় তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল ও ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়লে দেশীয় উদ্যোক্তারা সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপন এবং নতুন বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এক্সপোর আন্তর্জাতিক প্রচার বাড়ানো, বিদেশি ক্রেতাদের সম্পৃক্ত করা এবং স্টল ও প্যাভিলিয়ন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সাজানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, মানসম্মত পণ্য নির্বাচন, মেলার তারিখ আগেভাগে নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক আয়োজন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং মেলা-পরবর্তী যোগাযোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।

নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডব্লিউইএবি) প্রতিনিধি নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ, নারী পরিচালিত এসএমই প্রতিষ্ঠানের বুথের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন।

সভায় প্লাস্টিক, হিমায়িত খাদ্য, মৎস্য, পাট, আসবাবপত্র ও ওষুধসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি রফতানিকারকদের জন্য নীতিগত সহায়তা, কমপ্লায়েন্স-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, বিদ্যমান নীতিমালা সময়োপযোগী করা এবং বুথমূল্য বিবেচনার প্রস্তাব উঠে আসে।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রচারে বরাদ্দ বাড়ানো, বৈশ্বিক বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার এবং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারে নতুন ক্রেতা অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

তাদের মতে, বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা এবং মেলা-পরবর্তী কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে প্রকৃত রপ্তানি আদেশে রূপান্তর করা সহজ হবে।

সভায় এক্সপোর বুথ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখা, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, রপ্তানিকারক, আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণে গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬ দেশের রফতানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশীয় উদ্যোক্তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।

এমআর/এসআই