Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

বিদেশি ব্যাংকের মুনাফায় এক বছরে ৪৯৪ কোটি টাকার পতন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফা এক বছরে ৪৯৪ কোটি টাকা কমেছে। চলতি বছরের জুন শেষে এসব ব্যাংকের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর আমানতও কমেছে ১১১ কোটি টাকা। তবে আমানত ও মুনাফা কমে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম: প্রবণতা ও পরিচালনাগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত, ঋণ, বিনিয়োগ ও মুনাফাসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ আমানতের পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে আমানত কমেছে ১১১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমেছে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের জুন শেষে সম্মিলিত মুনাফা ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা থাকলেও চলতি বছরের জুন শেষে তা নেমে এসেছে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায়।

বাংলাদেশে বর্তমানে নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬৭টি শাখা ও ছয়টি উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকগুলো হলো দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও ব্যাংক আলফালাহ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের বড় অংশ রয়েছে তুলনামূলক কম সুদযুক্ত চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে। গত জুন শেষে এ ধরনের হিসাবে আমানতের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা জমা ছিল বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত হিসাবে। এ ছাড়া মেয়াদি বা স্থায়ী আমানতের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।

সাধারণত মেয়াদি আমানতে তুলনামূলক বেশি সুদ দিতে হয় ব্যাংকগুলোকে। তবে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এ ধরনের আমানতের পরিমাণ চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের তুলনায় কম।

আমানত কমলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে সামান্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণ বেড়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক হিসাবে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ গেছে শিল্প খাতে। গত জুন শেষে এ খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। বিপরীতে পরিবহন খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা। একই সময়ে নির্মাণ খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৪২৮ কোটি টাকা।

সামগ্রিকভাবে, এক বছরে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ও মুনাফা কমলেও ঋণ বিতরণে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে মুনাফা কমার পেছনে পরিচালন ব্যয়, সুদ আয়-ব্যয়ের ব্যবধান কিংবা অন্যান্য আর্থিক উপাদানের কী ভূমিকা রয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

টিএই/এএম