Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

জ্বালানি খাতের বাড়তি ভর্তুকি ব্যয় মেটানো ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী তিন বছরে এ ঋণ নিতে সংস্থাটির সঙ্গে বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিনে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এ সহায়তা চাওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে উপস্থিত সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি ভর্তুকি মেটানো ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগামী তিন বছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এতে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ও বাড়ছে। এই বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি সুরক্ষাবলয় তৈরিতে সংস্থাটি সহযোগিতা করবে।

এ জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নির্ধারিত হবে। অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করতে শিগগির বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে প্রস্তাবিত সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। ঋণের শর্তগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ঋণের শর্তগুলো পরিমার্জন করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। এ বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আরও দুই দিন বৈঠক চলবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নীতিগত ঐকমত্য রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করা, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়াও সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে।

থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে তিতুমীর বলেন, কৃষিজাত পণ্য, ফল, দুগ্ধজাত পণ্য ও হালাল খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণভিত্তিক যৌথ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।

টিএই/এসআই