মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ব্যালেন্স লোনে অতিরিক্ত করের বোঝা? তদন্ত চায় গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

ব্যালেন্স লোনে অতিরিক্ত করের বোঝা? তদন্ত চায় গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন
ফাইল ছবি/ সংগৃহীত

জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল ব্যালেন্স লোন নিতে গিয়ে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত কর ও চার্জের বোঝা চাপানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির অভিযোগ, ব্যালেন্স লোন গ্রহণ ও পরিশোধের বিভিন্ন পর্যায়ে কর কর্তনের হিসাব স্পষ্ট না থাকায় গ্রাহকদের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় একই অর্থের ওপর একাধিকবার কর আরোপ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) যৌথ তদন্ত দাবি করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স লোন দেওয়ার সুবিধা দিচ্ছে। এ জন্য ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে এ সুবিধা সহায়ক হলেও ঋণ গ্রহণ, সেবা ব্যবহার ও পরিশোধের বিভিন্ন পর্যায়ে কীভাবে কর আরোপ করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অপারেটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোবাইল সেবায় প্রতি ১০০ টাকায় ৫৮ টাকা কর আদায় করা হয়। সে হিসাবে ৫০০ টাকার ওপর প্রথম ধাপে করের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯০ টাকা। এর সঙ্গে ১০ টাকা সার্ভিস চার্জও যুক্ত হতে পারে। আবার ব্যালেন্স লোন পরিশোধের সময় নতুন করে কর কাটা হলে গ্রাহকের প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়তে পারে। তবে প্রতিটি পর্যায়ে কর কর্তন হলেই তা আইনগতভাবে দ্বৈত কর আদায় প্রমাণ করে না। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল ব্যালেন্স লোন মূলত গ্রাহকের সাময়িক যোগাযোগের সংকট মোকাবিলার একটি সুবিধা। কিন্তু এ সুবিধা নিতে গিয়ে সার্ভিস চার্জের পাশাপাশি করের অস্পষ্ট হিসাব ও অতিরিক্ত কর্তনের মুখে পড়লে গ্রাহকের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীদের জন্য এ ধরনের ব্যয় উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, একজন গ্রাহক ৫০০ টাকা ব্যালেন্স লোন নিলে নির্ধারিত শর্তে ওই অর্থ ব্যবহার এবং পরবর্তী রিচার্জ থেকে ঋণ পরিশোধের প্রত্যাশা করেন। কিন্তু ঋণ গ্রহণ, সার্ভিস চার্জ এবং ঋণ সমন্বয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে কী হারে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য কর প্রযোজ্য হচ্ছে, তা গ্রাহকের কাছে স্পষ্ট না হলে সেবাটিকে স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব বলা যায় না।

সংগঠনটির মতে, ঋণ হিসেবে দেওয়া ব্যালেন্স, সার্ভিস চার্জ, ব্যবহৃত টেলিযোগাযোগ সেবা এবং পরবর্তী রিচার্জ থেকে ঋণ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোন খাতে কী হারে কর প্রযোজ্য হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সেবার বিপরীতে অস্বচ্ছ বা পুনরাবৃত্ত করের বোঝা গ্রাহকের ওপর চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনটির পাঁচ দফা দাবি

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ব্যালেন্স লোনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রযোজ্য ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য করের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করতে হবে। একই কর একাধিকবার আরোপ করা হচ্ছে কি না, তা বিটিআরসি ও এনবিআরকে যৌথভাবে পর্যালোচনা করে স্পষ্ট করতে হবে।

এ ছাড়া ৫০০ টাকা লোন নিলে সার্ভিস চার্জ, কর ও অন্যান্য কর্তনসহ মোট কত টাকা কেটে নেওয়া হবে, তা লোন গ্রহণের আগেই গ্রাহককে জানাতে হবে। জরুরি যোগাযোগের জন্য দেওয়া এ সুবিধাকে অতিরিক্ত আয়ের মাধ্যম না বানিয়ে স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবা হিসেবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে, আইন ও বিধিবহির্ভূত কোনো চার্জ বা কর আদায় করা হলে তা বন্ধ করা এবং প্রমাণিত অতিরিক্ত কর্তনের অর্থ গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল ফোন এখন শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং ও জরুরি যোগাযোগের অপরিহার্য অংশ। তাই মোবাইল সেবায় গ্রাহকের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, ব্যালেন্স লোনের মতো সাময়িক আর্থিক সুবিধা অতিরিক্ত চার্জ ও অস্পষ্ট করের কারণে গ্রাহকের ব্যয় বাড়িয়ে দিলে সেটি প্রকৃত অর্থে গ্রাহকবান্ধব সেবা হতে পারে না। এ জন্য ব্যালেন্স লোনের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় ও কর কাঠামো প্রকাশ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গ্রাহকের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।এমআর/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর