নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
বাংলাদেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআইয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে এ প্রবৃদ্ধির প্রধান উৎস নতুন বিনিয়োগ নয়, বরং দেশে আগে থেকেই ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ। এ সময়ে নতুন ইকুইটি মূলধন ও আন্তঃকোম্পানি ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি নিয়ে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় ৫৫ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ২৬০ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে ব্যবসা করে অর্জিত মুনাফার উল্লেখযোগ্য অংশ আবারও এ দেশে বিনিয়োগ করছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে, একই সময়ে নিট ইকুইটি মূলধন ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ৭৭ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণপ্রবাহও ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। ফলে বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ বাড়লেও নতুন মূলধন আকর্ষণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
ইপিজেডের বাইরে বিনিয়োগ বেড়েছে
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরের খাতে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে এ খাতে নিট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে।
তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। যদিও আগের প্রান্তিকে এ খাতে নিট বিনিয়োগ ছিল মাত্র ০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। ফলে আগের প্রান্তিকের তুলনায় বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা কমেছে।
পুনর্বিনিয়োগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আস্থার প্রতিফলন
বিডার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকায় নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আগে থেকেই বিনিয়োগ করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এটি দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এর ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বাংলাদেশে আরও বেশি ও উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক।
বিডার এই সদস্য বলেন, ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বিডা।
অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে জোর
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রস্তুত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পটি এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। বর্তমানে প্রকল্পটির উন্নয়নকাজ এগোতে শুরু করেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিডার ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত সম্পন্ন কাজ এবং যেসব ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন, তা তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতেও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত জানানো হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এমআর/এফএ