মহিউদ্দিন রাব্বানি
১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ পিএম
দীর্ঘদিনের অনিয়ম, বাজার কারসাজি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে ধুঁকছে দেশের পুঁজিবাজার। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নজরদারি জোরদার, অস্বাভাবিক শেয়ার লেনদেনের তদন্ত দ্রুত শুরু এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও লেনদেনে নতুন সুবিধা চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল তদন্ত বাড়ানো কিংবা লেনদেনের নতুন সুবিধা চালু করলেই পুঁজিবাজারে স্থায়ী গতি ফিরবে না। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা।
সম্প্রতি ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল), খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল) ও অন্যান্য কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কথিত ইনসাইডার ট্রেডিং এবং বাজার কারসাজির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি।
অন্যদিকে, পুঁজিবাজারে নজরদারি আরও দ্রুত করতে অস্বাভাবিক লেনদেনের তদন্ত শুরুর ক্ষেত্রে কমিশন সভার অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এসব উদ্যোগে বাজার তদারকির প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সংস্কারের পরিধি আরও বিস্তৃত করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তদন্তে গতি, কারসাজি শনাক্তে প্রযুক্তি
৭ অক্টোবর বিএসইসির জারি করা সংশোধিত আদেশে ইউপিজিডিসিএল, কেপিসিএল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। তদন্তে ইউনাইটেড গ্রুপের চিফ অ্যাডভাইজার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের (ইউইসিএল) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের ভূমিকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনও যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অন্যের নামে পরিচালিত সুবিধাভোগী মালিকানার (বিও) হিসাব ও ট্রেডিং হিসাব ব্যবহার, শেয়ার কেনার অর্থের উৎস, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, প্রকৃত মালিকানা গোপন এবং সংশ্লিষ্ট শেয়ার থেকে অর্জিত আয় কারা পেয়েছেন, তদন্তের আওতায় সেসব বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডও পরীক্ষা করা হবে। সংশ্লিষ্ট শেয়ার লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে দর প্রভাবিত করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে কমিটি।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অতীতের অনিয়ম শনাক্ত করা নয়, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের পরিবেশ তৈরি করাও এ ধরনের তদন্তের উদ্দেশ্য। তবে তদন্তের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়েও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রতিনিধিরা কথা বলেছেন।
তাদের বক্তব্য, তদন্ত অবশ্যই হতে হবে, তবে তা এমনভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন, যাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ বিনিয়োগকারীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
সিদ্ধান্তের স্তর কমিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা
পুঁজিবাজারে নজরদারি জোরদারের আরেকটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি জানান, কোনো শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি, দরপতন বা লেনদেন শনাক্ত হলে তদন্ত কিংবা পরিদর্শন শুরুর আগে কমিশন সভার অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
বর্তমান ব্যবস্থায় অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি কমিশন সভায় উত্থাপন এবং অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হলে প্রাথমিক তদন্ত দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। বাজারে কারসাজি চলমান থাকলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দ্রুত তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। আবার প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও ব্যবস্থা নিতে দেরি হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর আস্থা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে দ্রুততা, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।
নজরদারিতে আসছে নতুন প্রযুক্তি
শুধু জনবলনির্ভর পর্যবেক্ষণের পরিবর্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে বিএসইসি।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, শেয়ারের লেনদেনের ধরন ও দামের অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করতে একটি ট্র্যাকিং সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
এ ধরনের প্রযুক্তি কার্যকর হলে কোনো শেয়ারে হঠাৎ অস্বাভাবিক লেনদেন, ধারাবাহিক দরবৃদ্ধি কিংবা লেনদেনের ধরনে সন্দেহজনক পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে। এতে অনিয়ম ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য কারসাজির ঝুঁকিও আগেভাগে চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ব্যাক অফিস সফটওয়্যার মানসম্মত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করায় তথ্যের সমন্বয় ও নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন এবং সমন্বিত সফটওয়্যার কাঠামো তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
তবে প্রযুক্তি চালু করাই যথেষ্ট নয়। তথ্যের নির্ভুলতা, নিরাপত্তা, নিয়মিত হালনাগাদ এবং সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো থাকলেও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
লেনদেনে নতুন সুবিধা, স্থগিত হিসাবেও সিদ্ধান্ত
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক আলোচনা থেকে পুঁজিবাজার সচল করার বিষয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব সামনে এসেছে। আলোচনায় স্থগিত বিও হিসাবের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের কার্যক্রমে গতি ফেরানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
বিএসইসি আগামী ডিসেম্বর থেকে ডে নেটিং সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এ ব্যবস্থায় নির্ধারিত নিয়ম ও শর্তের আওতায় বিনিয়োগকারীরা একই দিনে শেয়ার কেনা-বেচার সুযোগ পাবেন। এতে লেনদেনের নমনীয়তা বাড়তে পারে। তবে এ সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বাজারের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রতিনিধিরা শর্টসেল চালুর প্রস্তাবও দিয়েছেন। সাধারণভাবে শর্টসেল ব্যবস্থায় কোনো বিনিয়োগকারী ধার করা শেয়ার বিক্রি করে পরে তা কিনে ফেরত দেওয়ার সুযোগ পান। বাজারের পতন থেকেও লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে এই ব্যবস্থায়। তবে এর জন্য সুস্পষ্ট বিধিমালা, জামানত, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর নজরদারি অপরিহার্য। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এমন ব্যবস্থা বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতাও তৈরি করতে পারে।
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের দুর্বলতার একটি কারণ হিসেবে মানসম্মত কোম্পানির সীমিত অংশগ্রহণকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। উন্নত অর্থনীতিতে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। বাংলাদেশে এখনো ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বেশি। অথচ খেলাপি ঋণ, উচ্চ অর্থায়ন ব্যয় ও ঋণপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যাংকিং খাত সব উদ্যোক্তার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।
পুঁজিবাজার থেকে ইকুইটি অর্থায়ন সংগ্রহ করলে উদ্যোক্তাকে ব্যাংকঋণের মতো নির্ধারিত কিস্তি ও সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতায় পড়তে হয় না। তবে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত মুনাফা, কোম্পানির পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত তথ্য প্রকাশের দায় থাকে। এ কারণে পারিবারিক মালিকানাধীন অনেক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির বিষয়ে অনাগ্রহী থাকতে পারে। এই অনাগ্রহ কাটাতে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি জবাবদিহি ও সংখ্যালঘু শেয়ারধারীদের অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠানকেও যাচাই-বাছাই করে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে বিনিয়োগের বিকল্প বাড়বে এবং উৎপাদনশীল খাতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডবাজারের বিকাশ ঘটানো গেলে পুঁজিবাজার কেবল শেয়ার কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিনিয়োগকারীর সচেতনতা ও আস্থার পরীক্ষা
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের বড় ধরনের বিপর্যয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ক্ষতির স্মৃতি বহন করে। সেই অভিজ্ঞতার পরও বাজারে গুজব, অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি এবং দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ছোট মূলধন ও দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমানও গুজবের পরিবর্তে কোম্পানির ব্যবসায়িক মডেল, আর্থিক সক্ষমতা ও প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ারের দাম বাড়ছে বলেই সেখানে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। কোম্পানির আয়, মুনাফা, সম্পদ, দায়, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং লভ্যাংশের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বে বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ ব্যক্তিদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানোর লড়াই এখন তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। সেগুলো হলো-দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং মানসম্মত বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি। এর সঙ্গে প্রয়োজন ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি, বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা। উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়তে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এসব সংস্কারের সাফল্য নির্ধারিত হবে বিনিয়োগকারীরা কতটা নিরাপদ বোধ করছেন এবং পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠতে পারছে কি না, তার ওপর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজার চাঙা করতে সম্প্রতি ডিএসইর তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে আলোচনায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে গতি ফিরবে বলে আশা করছে ডিএসই।
বৈঠকে ব্রোকারেজ হাউসের মালিকরা পুরোনো অনিয়মের তদন্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জবাবে ডিএসই জানায়, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় তদন্ত চলছে, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। পাশাপাশি স্থগিত বিও হিসাবের দ্রুত নিষ্পত্তি, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের কার্যক্রমে গতি ফেরানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়।
এমআর/এমআর