রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এডিবির অর্থনির্ভরতার দিন শেষ: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এডিবির অর্থনির্ভরতার দিন শেষ: অর্থমন্ত্রী
‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অর্থের ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি পরিচালনার দিন শেষ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেছেন, ‘দেশের আর্থিক কাঠামো পরিবর্তন করা হচ্ছে। উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার, বন্ড মার্কেট ও অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।’

রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটরিয়ামে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও প্রতারণা সতর্কতা’।

আমির খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামো, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার কাঠামো এবং বেসরকারি খাতের অর্থায়ন ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও আইএমএফ অর্থ দেবে আর সেই অর্থ দিয়ে দেশ পরিচালিত হবে, এমন ব্যবস্থায় আর থাকতে চায় না সরকার।’

‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে অর্থের ব্যয় কমাতে হবে। তহবিলের ব্যয় কমানো না গেলে বাংলাদেশের ব্যবসা ও শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না। এ কারণে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সম্পদ ও ভবিষ্যৎ আয়কে কাজে লাগিয়ে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতুর সম্পদকে কেন্দ্র করে সিকিউরিটাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতেও এ ধরনের আরও সুযোগ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে হলে শুধু আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থের ওপর নির্ভর করা যাবে না। দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজন মেটাতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।’

আমির খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি বছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে এ প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে গিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক পণ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে এ সময়ের মধ্যে বাজারে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। ’

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এসময় শেয়ারবাজারসহ আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রকের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের কার্যক্রমে স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বানও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের দায়িত্ব বুঝে কাজ করতে হবে। নিয়ন্ত্রক কী করতে হবে বা কী করা যাবে না, তা বলে দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করলে আর্থিক খাতের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না। আর্থিক খাতের কার্যক্রম অনেকাংশে প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব ও আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল। তাই আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং নিজেদের কার্যক্রম নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শহিয়ার গনি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নীভিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার প্রমুখ।

এএইচ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর